টাইফুন ‘বাভি’র ভয়ে ৬ লাখ নাগরিককে সরিয়ে নিয়েছে চীন
ছবিঃ রয়টার্স
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রচণ্ড বাতাস নিয়ে আঘাত হানার পর পূর্ব চীনের প্রধান শহর ওয়েনজুর দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী টাইফুন ‘বাভি’।সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চীন এরই মধ্যে ৬ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে।
রোববার ভোরে প্রায় ১ কোটি মানুষের আবাসস্থল ওয়েনজুতে এটি আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে । উত্তর তাইওয়ানকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় বাভি কিছুটা দুর্বল হলেও এর বিশাল বৃষ্টি বলয়— যা আয়তনে প্রায় ফ্রান্সের সমান—এখনো বড় ধরণের ঝুঁকি হিসেবে রয়ে গেছে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ওয়েনজু অবস্থিত ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ৫ লাখ এবং প্রতিবেশী ফুজিয়ান প্রদেশ থেকে ১ লাখেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ওয়েনজুর বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী হুয়াং সিংহুয়ান মুদিমাল কেনার সময় বলেছেন, ‘আমি কিছুটা চিন্তিত, তবে আমার মনে হয় সব ঠিক হয়ে যাবে। আমরা আগেও টাইফুন দেখেছি। আমরা এটি কাটিয়ে উঠব।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘কোনো কিছুর অভাব নেই বিধায় আতঙ্কে অতিরিক্ত খাবার মজুদের প্রয়োজন নেই।’
জাপান ও তাইওয়ানে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বাভির প্রভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠা দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর কারণে ফিলিপাইনে ১৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
তাইওয়ানে পাহাড়ি এলাকা থেকে ১৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং দেশ জুড়ে ‘টাইফুন ছুটি’ ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে ৯২০টি আন্তর্জাতিক ও ২৮০টি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
তাইপেই-এর বেইতো এলাকায় ১০০ কিমি বেগে বাতাস বয়ে গেছে, যা গাছপালা উপড়ে ফেলেছে ও নদীগুলোকে প্লাবিত করেছে। সেখানকার বাসিন্দা ৬৮ বছর বয়সী ইয়ে মাও-সিউং বলেছেন, সব ঠিক আছে, এটি খুব একটা গুরুতর নয়। শুধু বাতাসের বেগ কিছুটা বেশি।
এদিকে ওয়েনজুর বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব চেন কিউকিন তার বৃদ্ধ বাবা-মাকে সাহায্য করতে যাওয়ার সময় জানিয়েছেন, ‘মায়ের ব্যালকনির ফুলের টবগুলো নিয়ে আমি চিন্তিত ছিলাম, তাই সেগুলো ভেতরে সরাতে যাচ্ছি। আমার বাবা-মা দুজনেই বৃদ্ধ এবং বাড়িতে একা থাকেন, তাই আমি শান্তিতে থাকতে পারছি না।’