আইএমএফের সঙ্গে সরকারের বৈঠকে আলোচনা হলো যেসব বিষয়ে
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সরকারের প্রথম দিনের বৈঠকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন, মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, রাজস্ব আহরণ এবং ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
একই সঙ্গে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও আইএমএফকে তুলে ধরেছে অর্থ বিভাগ।
রোববার (১২ জুলাই) আইএমএফের বাংলাদেশ মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে বৈঠক শুরু করে।
দিনব্যাপী একাধিক বৈঠকে সামষ্টিক অর্থনীতি, বাজেট, সংস্কার কর্মসূচি এবং নতুন ঋণ সহায়তার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়।
অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা আইএমএফকে জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো চলতি মাস থেকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে কত ধাপে এবং কী হারে এটি কার্যকর হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিপরিষদ।
অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ এ বিষয়ে কোনো মতামত দেয়নি। তবে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ফলে বাজেটের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে প্রতিনিধি দল।
বৈঠকে মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো, রাজস্ব আহরণ, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়ন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির ব্যয়সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরকারের চলমান অর্থনৈতিক সংস্কার কার্যক্রম নিয়েও মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।
এদিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু বলেন, ‘সরকারের প্রধান লক্ষ্য ঋণ নেওয়া নয়, বরং দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়—এমন কোনো শর্ত মেনে সরকার আইএমএফের সঙ্গে নতুন কর্মসূচিতে যাবে না। নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের অর্থনীতি ও জনগণের স্বার্থ রক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
দিনের সূচিতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রতিনিধি দলের একটি বৈঠক নির্ধারিত থাকলেও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ও সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের জানাজায় অংশ নেওয়ায় সেই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি।
সরকার তিন বছর মেয়াদি নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় ৪০০ থেকে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়নের আশা করছে। এই অর্থ সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বৈদেশিক অর্থায়নের চাপ মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।
এ লক্ষ্যে গত ৯ জুন অর্থমন্ত্রী আইএমএফকে চিঠি দিয়ে আগের কর্মসূচির পরিবর্তিত বাস্তবতা তুলে ধরে নতুন কর্মসূচির বিষয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়ে দেন।