কুমিল্লায় শিশুকে বলাৎকার শেষে হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

কুমিল্লায় শিশুকে বলাৎকার শেষে হত্যা, আসামির মৃত্যুদণ্ড

ফাইল ছবি

 

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ৯ বছর বয়সী এক ছেলে শিশুকে বলাৎকারের পর হত্যা মামলায় এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) কুমিল্লার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার রায় ঘোষণা করেন কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুল হান্নান।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের হারুনুর রশীদের ছেলে বিল্লাল হোসেন।

শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন জানান, ২০২৪ সালের বুড়িচং থানার মামলা নং-৫ এবং শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল মামলা নং-২৭১/২৬-এর বিচার শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(২) ধারায় আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

তিনি জানান, মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।  

কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহ সাদেকুর রহমান জানান, আদালতের জারি করা মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানার ভিত্তিতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী বিল্লাল হোসেনকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পিপি বদিউল আলম সুজন আরো জানান, ঘটনাটি প্রথমে নিখোঁজের ডায়েরি হিসেবে নথিভুক্ত হলেও তদন্তে এটি হত্যা মামলা হিসেবে রূপ নেয়। তদন্তে শিশুটিকে বলাৎকারের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রমাণ পায় পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বুড়িচং উপজেলার পূর্ণমতি গ্রামের চা দোকানি আক্কাস মিয়ার ৯ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে ১ অক্টোবর বুড়িচং থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

চার দিন পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে বুড়িচং উপজেলার মোকাম এলাকার একটি মাছের ঘের থেকে ইয়াসিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পরদিন ৬ অক্টোবর বিল্লাল হোসেন ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল হলে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত এ রায় দেন।