কক্সবাজারে বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র, বাড়ছে রোগব্যাধি
সংগৃহীত ছবি
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় কক্সবাজারে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে ৪৫ হাজার ৪৩৬টি পরিবারের ২ লাখ ৩২ হাজার ৬৯৮ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। প্রাণ হারিয়েছেন ৩৩ জন।
এদিকে পানি নামতে শুরু করলেও অনেক এলাকায় এখনো জলাবদ্ধতা, ভাঙাচোরা সড়ক, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে দুর্ভোগ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ দেখা যাচ্ছে।
চকরিয়ার দুর্গম বমু বিলছড়ি, বড়ইতলী, বিবিরখীল ও হারবাং, পেকুয়া উপজেলার কয়েকটি এলাকায় এখনো অনেক পরিবার খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙে যাওয়ায় রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু- নারীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
তবে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বন্যা-পরবর্তী সময়ে ডায়রিয়া, কলেরা ও অন্যান্য পানিবাহিত রোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে উপজেলা পর্যায়ে ১৬টি এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ৭২টিসহ মোট ৮৮টি মেডিকেল টিম মাঠে কাজ করছে। এসব টিম ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা, আহতদের চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রেফারেল এবং ফলোআপ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্ভাব্য পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে সার্বক্ষণিক রোগ নজরদারি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে জেলার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ২ লাখ ৮৫ হাজার ওআরএস, ৮ হাজার ৮৯০ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন, ১ লাখ ৫৫ হাজার ১৭০টি জিংক ট্যাবলেট, ২৪ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৩৩৩ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন, ১১ হাজার ব্যাগ ডিএনএস, ১১ হাজার ৫৬৮ ব্যাগ হার্টসল, ২ লাখ ১১ হাজার ৫৫০টি মেট্রোনিডাজল ট্যাবলেট, ১৫ হাজার ৫০০টি সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট এবং ২১৫ ভায়াল অ্যান্টি স্নেক ভেনম মজুত রয়েছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জেলার বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার, শিশুদের বন্যার পানিতে চলাচল থেকে বিরত রাখার, বিশুদ্ধ পানি পান করার এবং ডায়রিয়া বা অন্য কোনো অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।