কেঁচোর জৈব সারে বদলে যাচ্ছে নবীনগরের কৃষি, বাড়ছে কর্মসংস্থান
সংগৃহীত ছবি
কেঁচোকে বলা হয় প্রকৃতির লাঙ্গল। যে মাটিতে কেঁচো থাকে, সেই মাটির উর্বরতা বাড়ে এবং ফলনও ভালো হয়। সেই কেঁচো থেকেই তৈরি হওয়া ভার্মি কম্পোস্ট এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে টেকসই কৃষির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ জৈব সার একদিকে যেমন কৃষকের উৎপাদন খরচ কমাচ্ছে, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে সৃষ্টি করছে নতুন কর্মসংস্থান।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে প্রতি মাসে প্রায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টন জৈব সার উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। উৎপাদিত সার বিক্রির সুবিধায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ বিভিন্ন সার বিক্রয়কেন্দ্রে জৈব সার কর্নার চালু করেছে।
নবীনগর উপজেলার ইব্রাহীমপুর, জিনোদপুর, শিবপুর ও নাটঘর বড়িকান্দি ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশতাধিক উদ্যোক্তা বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এখানে মূলত ট্রাইকো কম্পোস্ট ও ভার্মি কম্পোস্ট—এই দুই ধরনের জৈব সার উৎপাদন করা হয়। গোবর, কচুরিপানা, কলাগাছ, সবজির উচ্ছিষ্ট ও জৈব বর্জ্য ব্যবহার করে এসব সার তৈরি হচ্ছে।
ইব্রাহীমপুর গ্রামের মুর্শেদা বেগমের জীবনও বদলে দিয়েছে কেঁচো চাষ। কয়েক বছর আগে কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ নিয়ে অল্প পুঁজি দিয়ে রেড ওয়ার্ম জাতের কেঁচো দিয়ে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন শুরু করেন। মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে উৎপাদিত সার বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেন তিনি। বর্তমানে এটি তার পরিবারের অন্যতম আয়ের উৎসে পরিণত হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নবীনগর উপজেলায় বছরে প্রায় এক হাজার টন জৈব সার উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। জৈব সারের ব্যবহার বাড়ায় রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমছে এবং জমির উর্বরতাও বজায় থাকছে।
স্থানীয় কৃষক গিয়াস উদ্দিন বলেন, দুই বছর ধরে সবজি চাষে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহার করছেন। এতে উৎপাদন খরচ কমেছে, রোগবালাইও কম হয়েছে এবং ফলন বেড়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতেই জৈব সার উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এ খাতকে আরও সম্প্রসারণে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।