বাংলাদেশে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ আয়োজনের বিবেচনায় সরকার : তথ্যমন্ত্রী
ফাইল ছবি
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বাংলাদেশে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা সরকার বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা হবে।
রবিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর সম্প্রচার নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলকে বাংলাদেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ভালো প্রস্তাব।
বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বাস্তবায়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বকাপ সম্প্রচারস্বত্ব কেনা ও অর্থায়নের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবার ফিফার কাছ থেকে সরাসরি ৩.৮৫ মিলিয়ন ডলারে মিডিয়া রাইটস কিনেছে। পরে দেশের চারটি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এর প্রায় পুরো অর্থ আদায় করা হয়েছে।
ফলে সরকারের নগদ ব্যয়ের চাপ মাত্র তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমে এই ঘাটতিও পূরণ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালের বিশ্বকাপে ফিফার কাছ থেকে ৩.২ মিলিয়ন ডলারে সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হলেও তা মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসে। সে সময় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ৯৮ কোটি টাকায় সম্প্রচারস্বত্ব কিনেছিল এবং বেসরকারি সম্প্রচারমাধ্যমগুলোর কাছে আরও প্রায় ৩৯ কোটি টাকায় বিভিন্ন স্বত্ব বিক্রি করা হয়।
সব মিলিয়ে প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল, যা দুর্নীতি ও লুটপাটের কেন্দ্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, এবার ফিফার পাওনা পরিশোধের অর্থও বেসরকারি উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির উদ্যোগে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফিফার পাওনা পরিশোধের পরও যে তিন থেকে পাঁচ কোটি টাকার ঘাটতি রয়েছে, সেটিও সাব-লাইসেন্সিং থেকে আদায় করা হবে। ফলে বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সরকারের আর্থিক ব্যয় প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
মন্ত্রী বলেন, সরকার এবার সরাসরি ফিফার সঙ্গে চুক্তি করায় মধ্যস্বত্বভোগীদের কোনো সুযোগ তৈরি হয়নি। এতে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় হয়েছে এবং দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী নির্বিঘ্নে বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পেরেছেন।