৩ পরিচালকের বিরুদ্ধে জিডি, মামলার প্রস্তুতি
ছবি: ফাইল ফটো
চলচ্চিত্র পরিচালক শাহীন সুমন, শাহীন কবির টুটুল ও গাজী মাহবুবের নামে টাঙ্গাইল সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক রিয়াজুল রিজু। কদিন আগে রিজুসহ আরও দুই নির্মাতাকে চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়। সেই বহিষ্কারাদেশকে অবৈধ দাবি করে জিডি করেন রিজু। একই সঙ্গে পরিচালক গাজী মাহবুবকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলার প্রস্তুতির কথাও জানান।
গত ৪ জুলাই গাজী মাহবুব বিভিন্ন গণমাধ্যমে দাবি করেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি তাদের তিন সদস্যের আজীবন সদস্যপদ বাতিল করেছে। তারা হলেন পরিচালক সমিতির সাবেক মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক মনজুরুল ইসলাম মেঘ এবং জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার রিয়াজুল রিজু।
জিডি ও আইনি নোটিশ–সংক্রান্ত কাগজপত্র ঢাকা মেইলের হাতে এসেছে। রিয়াজুল রিজু জিডিতে দাবি করেছেন, বহিষ্কারাদেশ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ বিষয়ে তাকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। এতে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সুমন, সাধারণ সম্পাদক শাহীন কবির টুটুল এবং সদস্য গাজী মাহবুবের নাম উল্লেখ করে বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে এ তিনজন বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার সম্মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার মাহ্বুবুর রহমান রিপনের মাধ্যমে গাজী মাহবুবকে পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিশে রিয়াজুল রিজু উল্লেখ করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে গাজী মাহবুবকে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত বহিষ্কারাদেশ সংক্রান্ত সংবাদগুলো অসত্য, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। নোটিশে বলা হয়, গত ১৫ দিনেও পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকে তাকে কোনো বহিষ্কারাদেশের আনুষ্ঠানিক নোটিশ, চিঠি বা ই-মেইল পাঠানো হয়নি। তাই গণমাধ্যমে প্রচারিত দাবি আইনি ভিত্তিহীন বলে তিনি মনে করেন।
নোটিশে আরও বলা হয়, কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করা আইন ও সংগঠনের বিধির অংশ। কিন্তু তার ক্ষেত্রে এসব প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলে দাবি করেন রিজু।
রিয়াজুল রিজু বলেন, ‘একটি অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ কমিটির কোনো এখতিয়ার নেই এভাবে কারও সম্মানহানি করার। আমি ১৫ দিন অপেক্ষা করেছি, যদি কোনো নোটিশ পাই। কিন্তু কেউ আমাকে কোনো নোটিশ দেয়নি। আমার সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। তাই আইনগত প্রতিকার চাই।’
কারণ দর্শানোর নোটিশে গাজী মাহবুবকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কারাদেশের আইনি ভিত্তি ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হবে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, পরিচালক সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নিষ্পত্তির আগে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বর্তমান কমিটির নেই বলেও দাবি করেন রিয়াজুল রিজু। একই সঙ্গে আদালত অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিষয়েও প্রশ্ন তুলে নোটিশে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজী মাহবুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তিনি কোনো নোটিশ পাননি। জিডির বিষয়েও কিছু জানেন না।
পরিচালক সমিতির সভাপতি শাহীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করেছি। এখন সে (রিজু) জিডি-মামলা, যা খুশি করতে পারে। এতে আমাদের কিছু বলার নেই।’
বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির বর্তমান কমিটির বৈধতা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ কমিটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক ও আইনি বিরোধ চলছে।