গাজীপুরে হোটেলে গৃহবধূ হত্যা : প্রধান আসামি গ্রেফতার, আদালতে স্বীকারোক্তি
প্রতিকি ছবি
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের চান্দনা চৌরাস্তার একটি আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ মোসা. শান্তা বেগম (৩৩) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রধান আসামি মো. সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) গাজীপুর জেলা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে পিবিআই গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এ তথ্য জানান। নিহত শান্তা বেগম নাটোর সদর উপজেলার চরলক্ষীকোল গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আহমেদনগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি দুই সন্তানের জননী।
পিবিআই জানায়, গ্রেফতার সাইফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সাইফুল ইসলাম জামালপুর জেলার ইসলামপুর উপজেলার বেনুয়ারচর গ্রামের মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই দুপুরে শান্তা বেগম ও সাইফুল ইসলাম নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার ‘আনোয়ারা ম্যানশন’ ইভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩০৭ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। ওই রাতেই হোটেল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ কক্ষ থেকে শান্তার গলা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে বাসন থানায় হত্যা মামলা করেন। পরদিন মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই গাজীপুর জেলা।
পিবিআই জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান ও ছায়া তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার এক দিনের মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, সাইফুল ইসলামের সঙ্গে শান্তা বেগমের দাম্পত্য সম্পর্কে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহ ও পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে অতীতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হাতাহাতির একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার ব্যাগে থাকা ফল কাটার ছুরি দিয়ে তার গলায় আঘাত করেন। পরে বুকে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে তার মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যান বলে পিবিআই জানিয়েছে।
পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাতনামা নারীর মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ক্রাইম সিন টিম ও ছায়া তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে এবং মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।