সৌদিতে হুতিদের জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মাঝ আকাশেই ধ্বংস
ছবিঃ সংগৃহীত।
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সৌদি আরবে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে সৌদির দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। তবে দেশটির সক্রিয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ক্ষেপণাস্ত্র দুটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
মূলত ইয়েমেনের হোদাইদাহ বন্দরনগরীতে চালানো সাম্প্রতিক হামলার জবাবে হুতি বিদ্রোহীরা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
শনিবার বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানায়, সৌদির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর ইয়ানবুর তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্য করে এই জোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে মোতায়েন থাকা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তা আকাশে থাকতেই ভূপাতিত করা হয়।
এর আগে চলতি সপ্তাহে সৌদি আরবের চালানো হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল হুতিরা। ওই ঘোষণার পরই মূলত সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সৌদির জিজান ও ইয়ানবু শহরে আগাম সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে হুতি-সমর্থিত আল মাসিরাহ টিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া কামারান দ্বীপেও হামলার খবর দিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। সেখানে হামলায় এখন পর্যন্ত এক নারী আহত হয়েছেন।
রয়টার্স প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানিয়েছে, হোদাইদাহ বন্দরেও বিস্ফোরণ ঘটেছে। যদিও ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এই বন্দরটিকে লক্ষ্যবস্তু করার কথা সরাসরি অস্বীকার করেছে। উল্লেখ্য, হোদাইদাহ বন্দরটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত উত্তর ইয়েমেনে অধিকাংশ বাণিজ্যিক পণ্য ও মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি লাইফলাইন।
সাম্প্রতিক এই উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য হুতিদের সরাসরি দায়ী করেছে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের আনুষ্ঠানিক মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি লোহিত সাগরে জাহাজগুলোর ওপর গোষ্ঠীটির অব্যাহত হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত ও বেপরোয়া’ বলে উল্লেখ করেছেন। এক বিবৃতিতে আল-মালিকি বলেছেন, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ‘সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণ’ অব্যাহত রাখবে। হুতিরা যদি তাদের ‘শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড’ চালিয়ে যায়, তাহলে কঠোর হস্তে তা দমন করা হবে।