যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা: স্বামীর আমৃত্যু কারাদণ্ড

ফাইল ছবি

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী রমা বিশ্বাসকে (২৫) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার স্বামী মনোজিত সরকারকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

আদালত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসককে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজিত সরকার আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। একই মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মনোজিতের ছয় স্বজন—বিপুল সরকার, সরজিৎ সরকার, লিটন সরকার, বিপ্লব সরকার, সবুজ সরকার ও দীপালী সরকারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের শুরুতে মধুখালী উপজেলার জারজননগর গ্রামের রঞ্জন বিশ্বাসের মেয়ে রমা বিশ্বাসের সঙ্গে একই উপজেলার কলাইকান্দা গ্রামের চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে মনোজিত সরকারের বিয়ে হয়। তাঁদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

এজাহারে বলা হয়, বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে চার লাখ টাকা, সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র দেওয়া হয়। পরে আরও এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও মনোজিত সরকার আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন।

অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২০ এপ্রিল দাবি করা টাকা না পেয়ে মনোজিত সরকার নাইলনের সুতা দিয়ে রমা বিশ্বাসের গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রচার করার চেষ্টা করা হয়।

ঘটনার পর মনোজিত সরকার মধুখালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন এবং রমার পরিবারের সদস্যদের জানান, পেটব্যথার কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এটি শ্বাসরোধে হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

পরে ২০১৮ সালের ১০ মে রমার বাবা রঞ্জন বিশ্বাস বাদী হয়ে মনোজিত সরকার ও তার ছয় স্বজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে হত্যা ও নির্যাতনের অভিযোগে মধুখালী থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ওই বছরের ২৪ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মাহাবুল করিম সাতজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রায়ের পর বলেন, যৌতুক সমাজের একটি ভয়াবহ ব্যাধি। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন বা হত্যার ঘটনায় কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না।