ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, ট্রফিই ছিল এমবাপ্পের স্বপ্ন
কিলিয়ান এমবাপ্পে
বিশ্বকাপে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিলেও কাঙ্ক্ষিত ট্রফি জিততে পারেননি কিলিয়ান এমবাপ্পে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপে ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো গোল্ডেন বুট জিতেছেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের আনন্দকে ছাপিয়ে গেছে দলের ব্যর্থতার হতাশা।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় ফ্রান্স। পরে স্পেন ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার আট দিন পর ইনস্টাগ্রামে এক আবেগঘন বার্তায় এমবাপ্পে জানান, গোল্ডেন বুট জেতা গর্বের হলেও বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুলতে না পারার কষ্ট এখনো তাকে পোড়াচ্ছে।
২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাওয়া এই তারকা জানিয়েছেন, একদিন আবারও ফ্রান্সকে শিরোপা এনে দেয়াই তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।
এমবাপ্পে তার খোলাচিঠিতে লেখেন, 'আমরা দললত শিরোপাটি জিততে পারিনি। এটা কষ্টদায়ক, আর এই খারাপ লাগা আরও কিছুদিন থাকবে, আমি সেটা অস্বীকার করব না। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করছি, তবে ট্রফিটা জিততে পারলে আরও বেশি ভালো লাগত। (সমর্থকদের উদ্দেশ্যে) সম্ভবত আপনাদের আরও সুন্দর একটি সমাপ্তি প্রাপ্য ছিল। কিন্তু গল্পের শেষটা সবসময় আমাদের হাতে থাকে না; মাঠে আমরা কী করতে পারি সেটাই কেবল আমাদের হাতে থাকে, আর আমরা নিজেদের উজাড় করে দিয়েছি। এটা নিয়ে আমরা গর্বিত।'
এমবাপ্পের পাশাপাশি এবারের বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসেও। ছয়টি গোল করেন দেম্বেলে, অ্যাসিস্ট করেন দুটি। আর কোনো গোল করতে না পারা ওলিসে এক আসরে সবচেয়ে বেশি সাতটি অ্যাসিস্টের রেকর্ড গড়েন।
সতীর্থদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে এমবাপ্পে বলেছেন, তার পাওয়া গোল্ডেন বুট দলের সবার অর্জন। তিনি লেখেন, 'সতীর্থদের ধন্যবাদ। তাদের কঠোর পরিশ্রম, মাঠে অবিরাম ছুটে চলা ও দারুণ সব পাস ছাড়া এবং প্রথম থেকে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত যে দলীয় চেতনা আমাদের এগিয়ে নিয়েছে, সেটা ছাড়া আমি কখনোই এতগুলো গোল করতে পারতাম না। এই পুরস্কার (গোল্ডেন বুট) যেমন আমার, তেমনি পুরো দলেরও।'