বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বার পর মামলা

বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে ধর্ষণ করে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বার পর মামলা

প্রতীকী ছবি।

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এক বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীকে (২১) জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। ভুক্তভোগী যুবতি বর্তমানে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় আছেন বলে মেডিকেল রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেছেন।

বৃহস্পতিবার ( ৩০ জুলাই ) দুপুরে ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম (৪৭) বাদী হয়ে ট্রাইব্যুনালে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় কবিরহাটের চর এলাহি ইউনিয়নের চর যাত্রা গ্রামের মোস্তফার ছেলে মোঃ ইউছুফকে (২৫) প্রধান আসামি করা হয়েছে।

জানা যায়, ভুক্তভোগীর মা জাহানারা বেগম একজন হতদরিদ্র ও বিধবা নারী। তার এক মেয়ে বাক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ভিক্ষাবৃত্তি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের উদ্দেশ্যে বাদী মাঝে মাঝে তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যেতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ ডিসেম্বর রাত আনুমানিক ৮ টার দিকে খাস মন্ডলিয়া বাজারের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি সুপারি বাগানের পাশে ইউছুফ ভুক্তভোগী বাকপ্রতিবন্ধী যুবতীর মুখে গামছা চেপে ধরে টেনে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ঘটনা কাউকে জানালে ভুক্তভোগী ও তার মাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় ইউছুপ। পরবর্তীতে বিয়ের প্রলোভন ও টাকা-পয়সার লোভ দেখিয়ে আরও একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করা হয়।

এ দিকে মেয়েটির মা জাহানারা বেগম তার শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্থানীয় ফার্মেসী ও পরবর্তীতে মাইজদী একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলে ভুক্তভোগী যুবতী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে চিকিৎসকরা জানান।

বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা আসামির বিচারের দাবিতে গত ২৩ জুলাই খাস মন্ডলিয়া বাজারে একটি মানববন্ধন আয়োজন করেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল আসামিকে রক্ষায় ভুক্তভোগীর পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাদের হুমকি ধমকি দিয়ে এ ঘটনায় প্রকৃত আসামীকে রক্ষা করতে বিভিন্ন ব্যাক্তিকে জড়িয়ে বিচারকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগীর মা গত ২৯ জুলাই কবিরহাট থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এর প্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই নোয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০২-এ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধারায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়।

ভুক্তভোগীর সঠিক চিকিৎসা সংক্রান্ত ও প্রসূতি অবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা এবং গর্ভের সন্তানের পিতৃত্ব নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য আদালত বাদী পক্ষের পিটিশনের ভিত্তিতে কবিরহাট থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ নোয়াখালীর বিচারক ফাতেমা ফেরদৌসী আদালতে এই নির্দেশ প্রদান করেন।

নোয়াখালী জজ আদালতের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুল আলম শাফি জানান, ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী হওয়ায় এবং হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় বিষয়টি সামাজিকভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবার এর দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে স্থানীয় একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি বিষয়টিকে অন্য খাতে নেয়ার চেষ্টা চালান।