ডায়াবেটিসে কোনটি বেশি উপকারী: মুড়ি নাকি চিড়া?

ডায়াবেটিসে কোনটি বেশি উপকারী: মুড়ি নাকি চিড়া?

ফাইল ছবি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাদ্যাভ্যাসে সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন বেলার মূল খাবারের পাশাপাশি বিকালের নাস্তা নির্বাচনেও বাড়তি সতর্কতার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদরা।

আমাদের দেশে নাস্তা হিসেবে মুড়ি ও চিড়া বেশ জনপ্রিয় হলেও, ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য মুড়ির তুলনায় চিড়া খাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বাড়াবে কি না তা নির্ধারণ করে। চিড়ার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম (৩০ থেকে ৬০), যা খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। অন্যদিকে, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য হওয়ায় মুড়ির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশ উচ্চ (৭০ থেকে ৮০)।

ফলে অতিরিক্ত মুড়ি খেলে দ্রুত রক্তে সুগার বেড়ে যেতে পারে।

পুষ্টিমানের দিক থেকেও চিড়া এগিয়ে। চিড়াতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার, আয়রন ও ভিটামিন-বি রয়েছে। এটি সহজে হজম হয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, যা ওজন ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর।

অপরদিকে, মুড়িতে ফাইবারের পরিমাণ কম থাকায় তা অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়।

তবে ডায়াবেটিক রোগীদের খাবার তৈরির নিয়মেও নজর দেওয়া জরুরি। পুষ্টিবিদরা জানান, চিড়া খাওয়ার সময় চিনি, গুড় বা কলা বর্জন করতে হবে। এর বদলে টকদই বা প্রচুর শাকসবজি দিয়ে চিড়ামাখা বানিয়ে খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। আর মুড়ি খেতে চাইলে তা পরিমিত পরিমাণে (আধা কাপ থেকে এক কাপ) শসা ও সবজির সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে।