স্বামীর পরকীয়া ও নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেসবুকে লাইভ শেষে গৃহবধূর আত্মহত্যা
সংগৃহীত ছবি
পাবনার ঈশ্বরদীতে স্বামীর পরকীয়া ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মেঘনা খাতুন (২১) নামের এক গৃহবধূর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) ভোরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মেঘনা খাতুন কুষ্টিয়া ইবি থানার হারুন উর রশিদের মেয়ে এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চর গড়াগড়ি পশ্চিমপাড়া গ্রামের গোলাম আজমের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে ভালোবেসে গোলাম আজমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন মেঘনা। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। অভিযুক্ত আজম দীর্ঘদিন ধরে ফুপাতো বোনের এক বান্ধবীর সঙ্গে ফেসবুকে যোগাযোগ করে আসছিলেন।
বিষয়টি জানাজানি হলে গত শনিবার সকালে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে স্বামী গোলাম আজম তাকে চড়-থাপ্পড় দেন এবং গলা টিপে ধরেন। এতে মেঘনার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
পরদিন (রবিবার) সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়িতে এসে অভিমানে গলায় ফাঁস দেন মেঘনা।
গলায় ফাঁস নেওয়ার পূর্বে তিনি নিজ মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি তার মৃত্যুর জন্য স্বামী গোলাম আজম, শ্বশুর ও শাশুড়িকে দায়ী করেন এবং স্বামীর পরকীয়া ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন-
আমি... একটা কথা কবো,
আমার মৃত্যুর পিছনে...
এক নম্বর আজম
দুই নম্বর আজমের মা
তিন নম্বর আজমের বাপ, আর আসলাম।
এরা আমাকে খুব জ্বালায়,
আর আমার স্বামী... যার কাছে আইছি, সে পরকীয়া করে।
আমার ভিতর কি কমতি আছে, যে পরকীয়া করে?
আমারে বুকে নেয় না, আমাক ভালোবাসে না।
আমাকে বুকে নিবে একটু...
আমি আমার জীবন রাখবো না,
ওরা আমাকে মারি ফেলা দেচ্ছে,
আজম আমার গলায় টিপ মারেছে।
আমার নিঃশ্বাস বন্ধ করে দেছে।
আমি মাত্র হাসপাতাল থেকে আসলাম...
মাত্র হাসপাতাল থেকে আসলাম...
হাসপাতালে নিয়ে আসি আবার অত্যাচার শুরু করছে...
আল্লাহ...
আল্লাহ গো...
আমি যদি মরে যাই, আমার যেন হেইনে মাটি দেয়, আমার বেটা আমার সোনা আমারে দেখতে পাবিনি।
আমার বেটা জেনো হেইনেই থাকে, বাপ-দাদার কাছেই থাকে।
আর নানির বাড়ি দুই-তিন মাস পর পর যেন যায়।
আর কিছু কওয়ার নাই আমার...
আর আজম, আমি দুনিয়ায় না থাকলে আমার কবরের কাছে একটু যাইও।
অনেক ভালবাসি, একা থাকতে ভয় পাই পাবো...
একটু যাইও তুমি, একটু যাইও।
প্রেম করে বিয়ে করেছি, বাপ-মা সবাক ছাড়ি দিয়ে
আমি আর মানসিক টেনশন নিতে পারছি না...
নিহত মেঘনার বাবা হারুন উর রশিদ বলেন, রবিবার বিকেলে জামাই গোলাম আজম মোবাইল ফোনে মেঘনার গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানান। সোমবার সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে মেয়ে মেঘনার মরদেহ দেখতে পান।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূ মেঘনার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশাদুর রহমান আসাদ জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।