সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ১,৬৪০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক বসাচ্ছে স্পেন

সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে ১,৬৪০ ফুট দীর্ঘ ভাসমান প্রতিবন্ধক বসাচ্ছে স্পেন

ছবিঃ সংগৃহীত।

উত্তর আফ্রিকার স্পেনীয় ছিটমহল সেউতায় হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশীর আকস্মিক ঢলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন।মরক্কো ও সেউতার মধ্যবর্তী সমুদ্রপথে ৫০০ মিটার (১,৬৪০ ফুট) দীর্ঘ একটি ভাসমান প্রতিবন্ধক নির্মাণ শুরু করেছে দেশটি, যাতে সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রমের পথ বন্ধ করা যায়।

গত শনিবার ভোরে সিভিল গার্ডের সদস্যরা তারাজাল ব্রেকওয়াটারে নির্মাণকাজ শুরু করেন। সাম্প্রতিক সময়ে মরক্কো থেকে হাজারো মানুষ এই ব্রেকওয়াটার পেরিয়ে বা সমুদ্র সাঁতরে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।

স্পেন এই ব্যাপক অনুপ্রবেশকে তাদের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে বর্ণনা করেছে।

স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই পরে স্বেচ্ছায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। তবে এই ঘটনা স্পেনের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা নিয়ে ইউরোপজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও বেড়েই চলেছে। শনিবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা অন্তত ৬৭ জনে পৌঁছেছে। স্প্যানিশ কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, সীমান্তের মরক্কো অংশে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

নিহতদের কেউ সমুদ্রে ডুবে মারা গেছেন, আবার কেউ ব্রেকওয়াটার ও সীমান্তঘেরা কাঠামো বেয়ে ওপরে ওঠার সময় পদদলিত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সেউতায় প্রবেশ করা প্রায় সব অভিবাসনপ্রত্যাশীকেই ইতোমধ্যে মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিবাসীদের এই নজিরবিহীন ঢল ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, বিশেষ করে শেনজেন অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কারণ শেনজেনভুক্ত ২৯টি দেশের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় একটি দেশে প্রবেশ করলে সহজেই অন্য দেশগুলোতে যাওয়া সম্ভব।

এই পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২টি সদস্য দেশ যৌথ খোলা চিঠি দিয়ে জরুরি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছে। তাদের দাবি, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়ে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ন্ত্রিত সীমান্ত পারাপার ঠেকাতে হবে।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আবর্তিত সভাপতির দায়িত্বে থাকা আয়ারল্যান্ড মঙ্গলবার ইইউর বিচার ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন দেশটির বিচার, স্বরাষ্ট্র ও অভিবাসনমন্ত্রী জিম ও'কাল্লাহান। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত রক্ষা কোনো একক দেশের দায়িত্ব নয়, বরং এটি পুরো ইউরোপের যৌথ দায়িত্ব।

এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উরসুলা ভন ডার লিয়েন সেউতার পরিস্থিতিকে "অগ্রহণযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্পেনের সঙ্গে তাদের সীমান্তেও নজরদারি আরও কঠোর করা হবে।