হাতীবান্ধায় প্রিপেইড মিটার বাতিল ও লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

হাতীবান্ধায় প্রিপেইড মিটার বাতিল ও লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

সংগৃহীত

‘তোর মিটার তুই নে, আগের মিটার ফিরিয়ে দে’, ‘প্রিপেইড মিটার বাতিল করতে হবে, করতে হবে’— আজ এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছিল লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার মেডিকেল মোড় চত্বর। প্রিপেইড মিটার বাতিল ও লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেন উল্লিখিত উপজেলার সাধারণ মানুষ।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে মেডিকেল মোড় গোলচত্বর এলাকায় ‘হাতীবান্ধা সচেতন নাগরিক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংকট নিরসন ও প্রিপেইড মিটার বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হাতীবান্ধা সচেতন নাগরিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক শামসুল আলম বুলেট, ফারুক হোসেন, ফিরোজ হোসেন, নজরুল, কমরেড সৈকত ও সবুজ সরকার।

সমাবেশে বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘স্মার্ট বা প্রিপেইড মিটার চালুর পর থেকে সাধারণ গ্রাহক আর্থিক ও মানসিকভাবে নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভূতের বিল ও অতিরিক্ত চার্জের পাশাপাশি যোগ হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং, যা সাধারণ মানুষের জনজীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।’’ বক্তারা অবিলম্বে প্রিপেইড মিটার বাতিল করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

আন্দোলন চলাকালে কর্মসূচিতে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির সাথে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেন হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রন্টি পোদ্দার এবং হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল জামান।

কর্মসূচিতে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। শত শত সাধারণ গ্রাহক স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে উত্তেজিত জনতা লালমনিরহাট–বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করলে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।

পরবর্তীতে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপ জন মিত্র প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত জনভোগান্তির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।