সাকিবের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

সাকিবের জন্য জাতীয় দলের দরজা বন্ধ: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে মামলা-বিচারের মুখোমুখি হতে এবং ঘরের মাঠ থেকে বিদায় নিতে প্রস্তুত আছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় তার দেশে ফেরা এবং জাতীয় দলের হয়ে খেলার আর কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার এতদিন সাকিবকে একজন খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করে তার প্রতি যথেষ্ট সহনশীল ও নমনীয় ছিল, কিন্তু সাকিব একজন ক্রিকেটার হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে না রেখে পুরোপুরি রাজনৈতিক অবস্থান বেছে নিয়েছেন। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে তার জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ আর অবশিষ্ট নেই।

সম্প্রতি নয়দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাকিবের অংশ নেওয়া প্রশঙ্গ টেনে আমিনুল হক বলেন, ‘যে ব্যক্তি স্বৈরাচারের স্টেজে উঠেছেন, তার আর ফেরার সুযোগ আছে বলে মনে হয় না।’ 

তিনি আরও জানান, সাকিবের দেশে ফেরার একমাত্র পথ এখন আইনি প্রক্রিয়া। দেশে ফিরলে তাকে সাধারণ নাগরিকের মতোই আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে এবং সব মামলার মুখোমুখি হতে হবে।

এরআগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেছিলেন, সরকার পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিলে তিনি দেশে ফিরতে এবং হত্যাসহ সব ‘মিথ্যা’ মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। 

এছাড়াও দেশের মাটিতে জাতীয় দলের হয়ে নিজের বিদায়ী টেস্ট সিরিজ খেলা এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন এই অলরাউন্ডার, যা বর্তমান সরকারের এই কঠোর অবস্থানের পর চরম অনিশ্চয়তায় পড়ল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও দুর্নীতির অভিযোগে মামলা হওয়ার পাশাপাশি গত দেড় বছর ধরে ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে রাখা হয়েছে।