গাজায় প্রতি রাতে ৩০-৪০ ফিলিস্তিনিকে হত্যার আহ্বান ইসরাইলি মন্ত্রীর
ইতামার বেন-গভির
ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেছেন, গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করা উচিত। এমনকি হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আরও ব্যাপকভাবে হত্যাকাণ্ড চালানোরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) প্রচারিত একটি পডকাস্টে গাজায় আটক সাবেক ইসরাইলি বন্দি রোম ব্রাসলাভস্কির সঙ্গে আলাপকালে বেন-গভির এ মন্তব্য করেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের নেতৃত্বে হামলার পর গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ চলাকালে ব্রাসলাভস্কি সেখানে বন্দি ছিলেন।
ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড চালানোর আহ্বান জানিয়ে বেন-গভির বলেন, ‘সেখানে এমন মানুষ আছে, যারা বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়। তারা মানুষও নয়।’
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের অংশ বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের চরমপন্থি বক্তব্য দিয়ে আসছেন। তিনি ইসরাইলের পুলিশ ও কারা বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন।
আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের আগে দেশটির রাজনীতিতে বেন-গভিরের প্রভাবও বেড়েছে। বর্তমান ‘যুদ্ধবিরতির’ অধীনে গাজায় সামরিক হামলা কমিয়ে দেয়ার নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত নন বলেও ব্রাসলাভস্কিকে জানান। সরাসরি হুমকি নয়, তাদের বিরুদ্ধেও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড পুনরায় চালুর পক্ষে মত দেন তিনি।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ওপর সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্ব নেই বেন-গভিরের। এছাড়া তিনি নিজে থেকে হামলার নির্দেশ দেয়ার ক্ষমতাও নেই। তবে তিনি ইসরাইলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার সদস্য, যেখানে যুদ্ধ ও জাতীয় নিরাপত্তা নীতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
আলাপচারিতায় ব্রাসলাভস্কি ইসরাইলে সাম্প্রতিক কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ড আইনের আওতায় সামরিক আদালতে ইসরাইলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দণ্ডিত ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কাজে তাকে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার অনুরোধ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমার একটি ব্যক্তিগত অনুরোধ আছে। মন্ত্রী, আমি সত্যিই আপনার চোখের দিকে তাকিয়ে বলছি—আমাকে তাদের ফাঁসিতে ঝোলানোর দায়িত্ব দিন।’
জবাবে বেন-গভির তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এটা ঘটানোর জন্য আমি বিশ্বকে উল্টে দেব। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, এটি না হওয়া পর্যন্ত আমি সবকিছু করব।’
বেন-গভির ফিলিস্তিনিদের গাজা থেকে স্থায়ীভাবে চলে যেতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সেখানে নতুন করে ইসরাইলি বসতি স্থাপনেরও আহ্বান জানান। ব্রাসলাভস্কিকে তিনি বলেন, ‘পুরো গাজাকেই আমরা নিজেদের বলে মনে করি।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবরে ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
বেন-গভিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য তার দীর্ঘদিনের চরমপন্থি অবস্থানেরই ধারাবাহিকতা। কিশোর বয়সে তিনি নিষিদ্ধ কাহানিস্ট জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মন্ত্রী হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী হামলার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের জন্য মৃত্যুদণ্ডকে নিয়মিত শাস্তি হিসেবে চালুর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনিদের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে আরও কঠোর করার কথাও প্রকাশ্যে বলেছেন।
তার এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচিত হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তা তার কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি।
তথ্যসূত্র: আল জাজির