লুট হওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারে ঘানার পাশে রাশিয়া, চাপে ইউরোপ

লুট হওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারে ঘানার পাশে রাশিয়া, চাপে ইউরোপ

ছবি: সামাজিক মাধ্যম

দ্বি-পাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও মানবিক বিনিময়সহ নানা ইস্যুতে সম্প্রতি বৈঠক করেছেন ঘানা ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা।আলোচনায় নেতৃত্ব দেন ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল ওকুদজেতো আব্লাকওয়া এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ।

আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়া ইস্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- আফ্রিকা থেকে চুরি হয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক নিদর্শন ও ঐতিহ্য ফেরত আনার বিষয়টি। এ লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চুরি হওয়া এসব নিদর্শনের বেশিরভাগই এখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দখলে রয়েছে।

মস্কোয় অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঘানায় রাশিয়ার বাণিজ্যিক উপস্থিতি বাড়ানোর আগ্রহের বিষয়টিও উঠে আসে। এর মাধ্যমে দুই দেশ ঐতিহ্যগত কূটনৈতিক সম্পর্কের বাইরে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে চাইছে।

বিজনেস ইনসাইডার আফ্রিকা প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মতে, সাংস্কৃতিক নিদর্শন ও ঐতিহ্য ফেরত আনতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সঙ্গে মিল রেখে সম্মেলনটি আয়োজন করা হবে।

এতে আফ্রিকার সাংস্কৃতিক সম্পদ ফেরত পাওয়ার দাবিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন গতি সৃষ্টির ইঙ্গিত মিলেছে। এই বৈঠকে ঘানার ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগে রাশিয়ার সমর্থন নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

বৈঠকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়ার পর ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যামুয়েল আব্লাকওয়া এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ঘানার এই লড়াইয়ে এখন রাশিয়ার সহযোগিতা রয়েছে। আফ্রিকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার ও ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ঘান একটি বড় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এ উদ্যোগে রুশ সরকার সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব নিদর্শনের অনেকগুলো এখনো ইউরোপের বিভিন্ন দেশের দখলে রয়েছে। তারা এগুলো থেকে অর্থ উপার্জন করছে এবং ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।

এদিকে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক পুনর্গঠনে আফ্রিকার দেশগুলোকে সহায়তা করতে প্রস্তুত রাশিয়া।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঘানার ঐতিহাসিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ এবং আফ্রিকার সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট জন মাহামার নেতৃত্বাধীন সরকার।

দেশটির দাবি, দাসপ্রথা-ঔপনিবেশিক শাসন এবং আফ্রিকার সাংস্কৃতিক সম্পদ দখলের ঐতিহাসিক ক্ষতি মোকাবিলায় ক্ষতিপূরণ প্রদান একটি বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হওয়া উচিত।

এই পুনরুদ্ধার উদ্যোগ শুধু ঘানার সাংস্কৃতিক নিদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আফ্রিকার বিভিন্ন সরকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ঔপনিবেশিক আমলে লুট হয়ে ইউরোপ ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের জাদুঘর, ব্যক্তিগত সংগ্রহ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে থাকা নিদর্শন ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘানার এই জোট তাদের এ প্রচারণায় নতুন কূটনৈতিক মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে আফ্রিকায় নিজেদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চাইছে মস্কো।