তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, ১২ মরদেহ উদ্ধার

তিউনিসিয়ার উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকাডুবি, ১২ মরদেহ উদ্ধার

ফাইল ছবি।

তিউনিসিয়ার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।নৌকাটিতে থাকা আরও দুজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির ন্যাশনাল গার্ড রবিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে জারজিস উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে নৌকাটি ডুবে যায়।

এতে মোট ১৫ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

ন্যাশনাল গার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রবিবার আরও নয়টি মরদেহ উদ্ধারের পর মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২-তে দাঁড়িয়েছে।

নিখোঁজ দুই ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নৌকাডুবির ঘটনায় তিউনিসিয়ার সীমান্তবর্তী শহর বেন গেরদানে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। শনিবার রাতে শহরটির বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এবং বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালান। নিহত ও নিখোঁজ অভিবাসীদের মধ্যে ১৪ জনই ওই এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানা গেছে।

ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে তিউনিসিয়া অন্যতম প্রধান যাত্রাস্থল। দেশটির উপকূল ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপ থেকে প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় আফ্রিকা থেকে ইউরোপগামী অভিবাসীদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় পথটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসন রুট। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে এই রুটে অভিবাসীদের মৃত্যু ও নিখোঁজের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। এ বছর এখন পর্যন্ত এই পথে অন্তত ৯১৪ জন অভিবাসী মারা গেছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন।

অবৈধ অভিবাসন ঠেকাতে ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে তিউনিসিয়ার ২৫৫ মিলিয়ন ইউরোর একটি চুক্তি হয়। এর প্রায় অর্ধেক অর্থ অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় তিউনিসিয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। ইতালির ডানপন্থী সরকারও ওই চুক্তিকে জোরালোভাবে সমর্থন করে।