টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

টানা ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত দিল্লি, রেড অ্যালার্ট জারি

ছবিঃ সংগৃহীত।

টানা বৃষ্টিতে কার্যত বিপর্যস্ত ভারতের রাজধানী দিল্লি। সোমবারের পর মঙ্গলবার সকালেও থামেনি বৃষ্টি।এরই মধ্যে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কায় দিল্লিতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর (আইএমডি)।

বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত ও ঝোড়ো হাওয়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটের সতর্কবার্তায় আইএমডি জানিয়েছে, পরবর্তী দুই থেকে তিন ঘণ্টায় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

সেন্ট্রাল দিল্লি, ইস্ট দিল্লি, নিউ দিল্লি, নর্থ দিল্লি, নর্থ-ইস্ট দিল্লি, নর্থ-ওয়েস্ট দিল্লি, শাহদারা, সাউথ দিল্লি, সাউথ-ইস্ট দিল্লি, সাউথ-ওয়েস্ট দিল্লি ও ওয়েস্ট দিল্লিসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

পানির নিচে সড়ক, ভোগান্তিতে মানুষ

সোমবারের টানা বৃষ্টিতে দিল্লির অনেক সড়ক পানিতে ডুবে যায়।

কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট। মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত দিল্লি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এক যাত্রী সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের আশপাশে খারাপ আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও বর্তমানে ফ্লাইট পরিচালনায় বড় কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

তবে সোমবার পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে দিল্লি বিমানবন্দর থেকে ১৫টি ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে পাঠিয়ে দিতে হয়। এর মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটও ছিল। ১২টি ফ্লাইট জয়পুরে, দুটি চণ্ডীগড়ে এবং একটি লখনউয়ে অবতরণ করে।

যে কারণে এত বৃষ্টি

দিল্লিতে এমন ভারী বৃষ্টির পেছনে উত্তর দিকের শুষ্ক বাতাস এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষকে দায়ী করেছেন আইএমডির বিজ্ঞানী ড. শশী কান্ত।

তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কাছে তৈরি হওয়া একটি লঘুচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প উত্তর ভারতের দিকে আসছে। একই সময়ে উত্তর দিক থেকে শুষ্ক বাতাস ঢুকছে দিল্লিতে। দুই ধরনের বাতাসের এই সংঘর্ষেই তৈরি হচ্ছে শক্তিশালী বজ্রঝড় এবং অল্প সময়ে ভারী বৃষ্টিপাত।

জলমগ্ন গুরগাঁওও

দিল্লির পাশাপাশি ব্যাপক বৃষ্টিতে বিপাকে পড়েছে পার্শ্ববর্তী গুরগাঁওও। সোমবার মাত্র এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই রাজীব চক, ইফকো চক, রেলওয়ে রোড, সেক্টর ৫, ওল্ড দিল্লি রোড, মেহরৌলি রোড ও বাসাই রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়।

সড়কে পানি জমে স্কুলবাস আটকে পড়ার পাশাপাশি অনেক গাড়িচালককে গাড়ি ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরগাঁও প্রশাসন স্কুলগুলোকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার এবং অফিসগুলোকে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর বলছে, মঙ্গলবার দিল্লি ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। ফলে জলাবদ্ধতা ও যানজটের পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবনে আরও ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে।