অর্থ পাচার ঠেকাতে বাড়ছে আমদানিতে নজরদারি
ফাইল ছবি
বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার ও অবৈধ অর্থ স্থানান্তর ঠেকাতে আমদানিতে নজরদারি বাড়াচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে আমদানি প্রক্রিয়ায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এজন্য বড় অঙ্কের আমদানিতে নজরদারি আরও জোরদার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা তার বেশি মূল্যের আমদানির ক্ষেত্রে ঋণপত্র খোলার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে নির্দেশনা জারি করেছে। এই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে কঠোর শাস্তির আওতায় আসবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার মুখেও পড়তে হতে পারে বলে জানা গেছে।
এ নিয়ে জারি করা নতুন আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯-এ বলা হয়েছে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান, বিদেশি রপ্তানিকারক, পণ্যের বিবরণ, মূল্য ও সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক নথি নিবিড়ভাবে যাচাই করতে হবে ব্যাংকগুলোকে। এতে বড় অঙ্কের আমদানি ঋণপত্র খোলার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির আওতায় চলে আসবে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যার ফলাফলস্বরূপ একদিকে অর্থ পাচার রোধ করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে আমদানিতে বৃদ্ধি পাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে ১৩ আগস্ট জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের ১ নম্বর সার্কুলারের ৩০ নম্বর নির্দেশনায়ও এসব বিধান উল্লেখ করা হয়েছে। সার্কুলারে আমদানি লেনদেন সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রা বিধিবিধান একীভূত করার পাশাপাশি বড় অঙ্কের আমদানি, ঋণপত্র খোলা, পণ্যের তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সংরক্ষণ ও রিপোর্টিংয়ের বিষয়ে ব্যাংকগুলোর করণীয় নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন ব্যবস্থায় ৩০ লাখ ডলার বা তার বেশি মূল্যের কোনো আমদানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অনুমোদিত ডিলার ব্যাংককে ঋণপত্র খোলার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা আগে অনলাইন আমদানি তদারকি ব্যবস্থায় তথ্য দিতে হবে। সরকারি আমদানি এ বাধ্যবাধকতার বাইরে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বড় অঙ্কের আমদানির ক্ষেত্রে অতিমূল্যায়ন, ভুল পণ্যের বিবরণ, ভুয়া বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার রোধ করা। বিশেষ করে কোনো পণ্যের প্রকৃত মূল্য থেকে অস্বাভাবিক বেশি মূল্য দেখিয়ে বিদেশে অর্থ পাঠানো হচ্ছে কি না, কিংবা আমদানির নথিপত্রের সঙ্গে প্রকৃত পণ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের সুযোগ বাড়বে।
এ প্রসঙ্গে সাবেক অর্থউপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড, সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, যেকোনো অঙ্কের আমদানিতে ঋণপত্র খোলার আগে তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করা উচিত। আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের পরিচয় যাচাই এবং পণ্যের মূল্য ও বাণিজ্যিক নথি পরীক্ষা এই তিন স্তরের নজরদারি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে আমদানি ব্যবস্থায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।