ইউক্রেন সংকটের মুখে জার্মানির প্রতিরক্ষা নীতির আমূল পরিবর্তন
ইউক্রেন সংকটের মুখে জার্মানির প্রতিরক্ষা নীতির আমূল পরিবর্তন
রোববার জার্মান সংসদের নিম্ন কক্ষ বুন্ডেসটাগের বিশেষ জরুরি অধিবেশনে চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস অতীতের সংশয় ঝেড়ে ফেলে একাধিক ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তনের ঘোষণা দিলেন।
তার মতে, ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার হামলার ঘটনা ‘নতুন যুগের সূচনা’ করেছে। সেই বাস্তব সত্যের মুখে জার্মানির নিরাপত্তাও নতুন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নতুন চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা করতে শলৎস সেনাবাহিনীর জন্য ১০ হাজার কোটি ইউরো মূল্যের বিনিয়োগের ঘোষণা করলেন। সেইসাথে এবার থেকে জার্মানির মোট দেশজ উৎপাদনের দুই শতাংশের বেশি প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়েরও অঙ্গীকার করলেন তিনি।
উল্লেখ্য, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানিসহ ন্যাটোর বেশ কিছু সদস্যের উপর এমন অঙ্গীকার আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
সংসদে তার ভাষণে শলৎস বলেন, এই যুদ্ধ রাশিয়া নয়, সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের যুদ্ধ। তার মতো যুদ্ধবাজের জন্য সীমারেখা স্থির করার ক্ষমতার উপর জোর দেন তিনি। রাশিয়ার এই আগ্রাসনের পক্ষে কোনো যুক্তিই থাকতে পারে না বলে তিনি মনে করেন।
সংসদের বাইরে ইউক্রেনের পতাকা এবং দর্শকের আসনে সে দেশের রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতি রোববারের অধিবেশনকে প্রতীকী মাত্রা দিয়েছিল। সমবেত করতালির মাঝে জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট ইওয়াখিম গাউক তাকে আলিঙ্গন করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি সঙ্গত কারণেই সামরিক তৎপরতা থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিককালে ন্যাটোসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মিলিত অভিযানে অংশ নেয়ার চাপ সামলাতে গিয়ে বুন্ডেসভেয়ারের দুর্বলতা আরো স্পষ্ট হয়ে গেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের মুখে সব দ্বিধা ঝেড়ে ফেলে বর্তমান সরকার অবশেষে প্রতিরক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, রোববারের ঘোষণার ফল পেতে অনেক সময় লাগবে। তার আগেই কোনো অঘটন ঘটলে জার্মানিকে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে ন্যাটোর উপর আরো নির্ভর করতে হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে শনিবারই জার্মানি অতীতের নীতি ত্যাগ করে যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্র সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে ইউনিয়ন শিবির সরকারের এই নীতির পক্ষে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।ন্যাটোর মহাসচিব ইয়েন্স স্টলটেনবার্গ জার্মানির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ইউরোপের নিরাপত্তার এমন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এই পদক্ষেপ দেশগুলোর নিরাপত্তা ও স্বাধীনতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ।
সূত্র : ডয়চে ভেলে