কুষ্টিয়ায় ধর্ষন মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ায় ধর্ষন মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ায় ধর্ষন মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ার মডেল থানার একটি ধর্ষন মামলায় ৩জনের যাবজ্জীবন  কারাদন্ডসহ অর্থদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালহত। বৃহষ্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের বিচারক সৈয়দ হাবিবুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে সাজাপ্রাপ্Í এক আসামীদের উপস্থিতিতে এই রায় দেন। রায়ে সশ্রম কারাদন্ডসহ প্রত্যেকের পৃথক ভাবে এক লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর সাজার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সাজা প্রাপ্তরা হলেন- ধর্ষন দায়ে মূল আসামী কুমারখালী উপজেলার পূর্ব লাহিনীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত: আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মো: শাহাদত হোসেন ওরফে স্বাধীন(৪৭)। এছাড়া পরিকল্পিত এই ধর্ষনে সরাসরি সাহায্যকারী ঘটনাস্থলের গৃহকত্রী পলাতক আসামী নুরুল ইসলাম ওরফে মন্টুর স্ত্রী বেদেনা খাতুন (৫০) এবং তার স্বামী কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ০৬নং কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ সড়কের বাসিন্দা মৃত: জয়েন উদ্দিনের ছেলে নুুরুল ইসলাম ওরফে মন্টু (৫৭)।

আদালতের মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী সকাল সাড়ে ৯টায় কুষ্টিয়া শহরের হরিশংকরপুর মাদ্রাসার সামনের রাস্তা থেকে এলাকার পরিবার ঘনিষ্ট চাচা সম্পর্কিত আসামী শাহাদত হোসেন স্বাধীন ওই মাদ্রাসার ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী(১৪)কে খাতা কলম কিনে দেয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে একটি অটোতে চরে শহরের ০৬নং কুতুব উদ্দিন আহম্মেদ সড়কের বাসিন্দা আসামী নুরুল ইসলাম ও বেদেনা খাতুনের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষের মধ্যে ঢুকিয়ে বাহির থেকে ছিটকানি লাগিয়ে গৃহকর্তা নুরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী বেদেনা খাতুনের যোগসাজসে অবরুদ্ধ করে আসামী শাহাদত হোসেন স্বাধীন জোর পূর্বক ধর্ষন করে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে ওই মাদ্রাসা ছাত্রী তার পরিবারের কাছে সব খুলে বলে। এঘটনায় আক্রান্ত ওই মাদ্রাসা ছাত্রী নিজেই বাদি হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধর্ষক শাহাদত হোসেন ওরফে স্বাধীনসহ তিন জনের নামোল্লেক করে ধর্ষন মামলা করেন।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্ব ঘটনার সাথে ৩জনকে জড়িত অভিযোগ এনে আদালতের চার্জশীট দাখিল করেন দাখিল করেন কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের উপ পুলিশ পরিদর্শক লিপন সরকার।

কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতের কৌসুলি পিপি এ্যাড. আব্দুল হালিম জানান, কুষ্টিয়া মডেল থানার মাদ্রাসা ছাত্রী ধর্ষন মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীত প্রমানিত হওয়ায় তাদের যাবজ্জীবন কারদন্ডসহ প্রত্যেকের পৃথক ভাবে এক লক্ষ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা খাটতে হবে বরে বিজ্ঞ আদালত রায় দিয়েছেন।

অপরপক্ষে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক মো: আশরাফুল ইসলামের আদালত দুই যুগ পূর্বের (১৯৯৮)সালে স্থানীয় সরকার পকৌশলী অধিদপ্তর এলজিইডির দুইটি চেক জালিয়াতি করে সরকারের সাড়ে ১৭ লাখ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদকের করা মামলায় ৩জনের বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড দিযেছে আদালত। এলজিইডি কুষ্টিয়া অফিসের পিয়ন আব্দুল মতিন(৬৫)কে ৬বছর, এবং মসজিদের ইমামম কারী মো: আবুল কাশেম(৭০)কে ৪বছর সশ্রম কারাভোগসহ পৃথক ভাবে ১৮লক্ষ টাকা জরিমানা এবং হিসাব রক্ষক(অবসরপ্রাপ্ত) সাফায়েত হোসেন(৭৫)কে দুই বছরের সাজার আদেশ দিয়েছেন আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পিপি এ্যাড: আল মুজাহিদ মিঠু।