অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট ভবনে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার দাবি

অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্ট ভবনে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় পার্লামেন্ট ভবনের দেয়াল বেয়ে ছাদে উঠে যান ৪ জন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী। সেখানে তারা ইসরায়েলি দখলদারদের হাত থেকে ফিলিস্তিনকে মুক্ত করার দাবি জানিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যানার টাঙিয়ে দেন।

এসময় তারা ফিলিস্তিনের পক্ষে শ্লোগান দিতে থাকেন, ‘নদী থেকে সমুদ্র, ফিলিস্তিন স্বাধীন হবে, চুরি করা জমিতে কোন শান্তি নেই।’ খবর আল-জাজিরার। দেশটির পার্লামেন্টেও বৃহস্পতিবার এ বিক্ষোভের রেশ লাগে।একজন মুসলিম সিনেটর ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পক্ষে অস্ট্রেলিয়াকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।

রেনেগেড অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপের ৪ জন সদস্য প্রায় ১ ঘণ্টা পার্লামেন্ট ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বেশ কয়েকটি বড় কালো এবং সাদা ব্যানার নিয়েছিলেন তারা।

বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন একটি মেগাফোন ব্যবহার করে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। তার বলছিলেন, গাজায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইসরায়েলি সরকার ‘যুদ্ধাপরাধ’ করছে। এখানে অস্ট্রেলিয়ান সরকারও অভিযুক্ত, কারণ তাদেরও এখানে সমর্থন রয়েছে।

বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে বলেন, ‘আমরা অস্ট্রেলিয়ান সরকারের কাছে ঘোষণা করছি যে আমরা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী, আধিপত্যবাদী এবং পুঁজিবাদী স্বার্থের মুখোশ উন্মোচন এবং প্রতিরোধ চালিয়ে যাবো এবং প্রয়োজনে নিজেদেরকে উৎসর্গ করবো।’

পুলিশ এবং নিরাপত্তাকর্মীরা এসময় ভবনটির মূল প্রবেশদ্বারে নিচে বিক্ষোভকারীদের না হাটতে নির্দেশ দেয়। এসময় ছাদে আরো অনেককে বিক্ষোভকারী দলটিকে সরানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে। পরে স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় অপেক্ষমাণ পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভকারীদের ব্যানার গুছিয়ে নেয়।

এটি সংসদের নিরাপত্তার একটি গুরুতর লঙ্ঘন, বিরোধী স্বরাষ্ট্র বিষয়ক মুখপাত্র জেমস প্যাটারসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক বার্তায় এ কথা বলেন। 

তিনি আরো বলেন, এই ধরনের অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য বিল্ডিংটিতে বড় ধরনে সংস্কার প্রয়োজন। অবশ্যই এটি তদন্ত করে দেখা উচিত।

উল্লেখ্য, ৭ অক্টোবরের ইসরায়েলে হামলার পর প্রায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত হয়। এসময় ২৫০ জনকে বন্দী করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। বন্দীদের উদ্ধারে গাজায় চালানো ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৩৮ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়। অনেকেই হয় বাস্তুচ্যুত।

দক্ষিণ আফ্রিকা গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চালানো হামলাকে গণহত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক আদালতে (আইসিজে) একটি পিটিশন দায়ের করে। জুনে জাতিসংঘের তদন্তে দেখা গেছে যে গাজা যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে ইসরায়েল এবং হামাস উভয়ই যুদ্ধাপরাধ করেছে। তদন্তে আরো বলা হয়েছে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ব্যাপক বেসামরিক ক্ষতির কারণে মানবতার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে, অস্ট্রেলিয়া বেশ কয়েকটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ হয়েছে। যার মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান শহর, এখানকার বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ দেখা গেছে।

ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সমর্থনে সংসদীয় প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়ার পর লেবার পার্টি গত সোমবার তাদের একজন সিনেটর ফাতিমা পেম্যানকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বরখাস্ত করেছে। পেম্যান বলেন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে ভোট দেয়ায় তাকে নির্বাসিত করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া এখনো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়নি, কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং মে মাসে বলেছিলেন যে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার আগে আমরা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছি না।