‘এলডিসি উত্তরণে রোডম্যাপ ও অ্যাকশন প্ল্যান করছে সরকার’
ছবি: সংগৃহীত
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশ সব ধরনের সুবিধা হারাবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, উত্তরণের ফলে কিছু ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও কমপ্লায়েন্স অর্জনে কাজ করছে সরকার। এজন্য একটি রোডম্যাপ ও অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল শিফট ইন দ্য পোস্ট-এলডিসি ইরা: স্ট্র্যাটেজিস ফর আইপিআর ইস্যুজ অব কি ইন্ডাস্ট্রিজ’ শীর্ষক ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসএসজিপি, ইআরডি ও ডিসিসিআই যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর কোন কোন সুবিধা অব্যাহত থাকবে এবং কোথায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, সেসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি প্রয়োজন। এজন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের করণীয়ও নির্ধারণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিআই) ও এফবিসিসিআইসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সহযোগিতায় রোডম্যাপটি পরিশীলিত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ সব সুবিধা হারাবে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আইনি দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন ইআরডি সচিব। আন্তর্জাতিক আলোচনায় আইনি দক্ষতার ঘাটতি পূরণে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইআরডি সচিব। তিনি বলেন, ধোলাইখাল, কেরানীগঞ্জ, সাভার ও ভৈরবসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বংশপরম্পরায় পণ্য তৈরি করছেন। তাদের সরকারি সহায়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। সামান্য নকশাগত পরিবর্তন ও মানোন্নয়নের মাধ্যমে এসব পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
গবেষণা খাতে বরাদ্দ থাকলেও তা পুরোপুরি ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, অর্থ থাকলেও বিভিন্ন সংস্থার সক্ষমতার ঘাটতির কারণে অনেক ক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি নেই, তবে কোথাও কোথাও সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এসব ঘাটতি পূরণে কাজ চলছে।
এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিতে সমন্বয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন ইআরডি সচিব। সরকার, বেসরকারি খাত, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগসূত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রতিটি খাত ও বিভাগের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট আলোচনা করা হবে। কোথায় আইন, বিধি বা কার্যক্রমে পরিবর্তন, সংযোজন কিংবা পরিমার্জন প্রয়োজন, তা পর্যালোচনা করা হবে।
সরকারকে টাস্কফোর্স গঠন করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথায় প্রক্রিয়া জটিল, কোথায় অস্বচ্ছতা এবং কোথায় মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন, সেসব বিষয় চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি সেবা আরও সহজ করতে ডিজিটালাইজেশনের কাজ চলছে।
বাংলাদেশের নিজস্ব মানদণ্ড তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। শুধু আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ নয়, বাংলাদেশের এমন মানদণ্ড তৈরি করতে হবে, যা আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেতে পারে। তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে মানোন্নয়নের পাশাপাশি গবেষণা ও উন্নয়নে শিল্প খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের আইন অনুষদের গবেষক এবং বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থার (ডব্লিউআইপিও) সাবেক পরামর্শক মোহাম্মদ আতাউল করিম।
সভায় ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপির প্রকল্প পরিচালক এ এইচ এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালসের উপমহাব্যবস্থাপক ফায়েজ আহমেদ, ব্রেইন স্টেশন ২৩-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রইসুল কবির, আইপিএবির পরিচালক জেনারেল এমদাদুল আজিজুর রহমান, বিজিএমইএর মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. শাহেদুল ইসলাম (অব.) এবং বামার সভাপতি কে এস এম মোস্তাফিজুর রহমানসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।