‘ভাত লাগলে ভাত নে, আমার ভাইরে ফেরত দে’
ছবি: সংগৃহীত
‘ভাত লাগলে ভাত নে, আমার ভাইরে ফেরত দে’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’, ‘তুমি কে আমি কে, আজমুল আজমুল’সহ নানান ম্লোগানে আজমুল হত্যার বিচারের দাবিতে খুলনায় সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে মহানগরীর এম এ বারী সড়কে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, এক প্লেট ভাতের মূল্য আর একটা জীবনের মূল্য এক হতে পারে না। এই হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি শুধু একটি হত্যাকাণ্ড নয়, এটি আমাদের ক্যাম্পাস ও মেস-জীবনে বিরাজমান নিরাপত্তাহীনতা ও নৈরাজ্যের এক ভয়াবহ দৃষ্টান্ত। পরিবার ছেড়ে পড়াশোনা করতে এসে এভাবে জীবন দিতে হলো- এই দায় আমরা কেউই এড়াতে পারি না।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটির শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার প্রায় ৭২ ঘণ্টা হতে চলল; অথচ একজন আসামিও গ্রেফতার করতে পারে নাই। প্রশাসনকে আমরা ধিক্কার জানাই। তুচ্ছ কারণে বিচারবহির্ভূতভাবে এভাবে হত্যা করা মেনে নেওয়া যায় না।
শিক্ষকরা আরও বলেন, আমাদের দাবি একটাই- খুনিদেরকে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে; যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে।
নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কানাই লাল বলেন, ‘ঘটনা অনেকটা খোলাসা হয়ে গেছে। তাকে ভাত চুরির অভিযোগে, মিথ্যা ও তুচ্ছ অভিযোগে বেধড়ক প্রহার করা হয়। এরপর তাকে ছাদে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে- এটাই বাস্তবতা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই অমানবিক ঘটনার পর দুই দিনের বেশি অতিবাহিত হলেও প্রশাসন কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেফতার করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
পরে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বিক্ষোভ সমাবেশে এসে তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, আমি আধা ঘণ্টার মধ্যে আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাব তিনি যেন এ বিষয়ে নজর রাখেন। অপ্রতিমের বিষয়ের মতো যেন এ বিষয়টিও দেখেন।
শুক্রবার রাত দেড়টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষার্থীসহ অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের ১৭ ও ১৯ ব্যাচের রবিন ও মবিন, গণিত ডিসিপ্লিনের ১৯ ব্যাচের সাগর এবং এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থী ওবায়দুল। পুলিশ এখনো তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি।