ট্রাম্পের হামলা বাতিলের পরই গুরুত্বপূর্ণ কাহবুব অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে তীব্র অভিযান হুতিদের
সংগৃহীত ছবি
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা তাইজ এবং লাহিজ প্রদেশের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কাহবুব পাহাড়ি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য তীব্র অভিযান শুরু করেছে। যার মূল উদ্দেশ্য সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কাছ থেকে লোহিত সাগর উপকূলকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করা।
এটি লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের অবস্থানকে আরো সুরক্ষিত করবে বলে জানা গেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুতিদের ওপর পূর্বপরিকল্পিত বিমান হামলা একেবারে শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন বলে গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে।
চলতি মাসে ইরান সমর্থিত এই গোষ্ঠীটির আকস্মিক ও দ্রুতগতির অগ্রযাত্রা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে একটি নতুন রূপ দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌ-রুটের নিরাপত্তা নতুন করে বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ইয়েমেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে যোগ দেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও ওয়াশিংটন এখন পর্যন্ত তাতে সাড়া দেয়নি। এরই মধ্যে গত শনিবার হুতিরা রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে, যার পরপরই সেখানে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং বিমানবন্দরের কাছাকাছি এলাকা থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা যায়।
তবে সংঘাত শুরুর পর রাজধানীতে হওয়া এই প্রথম প্রকাশ্য হামলা নিয়ে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি যুবরাজের নতুন করে করা অনুরোধের পর ট্রাম্প প্রশাসন গত রোববার হুতিদের ওপর বিমান হামলা চালানোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল।
কিন্তু মার্কিন যুদ্ধবিমানে যখন বোমা লোড করা হচ্ছিল, একেবারে শেষ মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিমান হামলা বাতিল করার নির্দেশ দেন।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের প্রেসিডেন্ট রশীদ আল-আলিমি মার্কিন সামরিক সহায়তার আশায় ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বললেও, ট্রাম্প প্রশাসন কোনো সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। ফলে ওয়াশিংটনের এই অনীহার মাঝেই ইয়েমেনের কৌশলগত পাহাড়ি অঞ্চলে হুতিদের অগ্রযাত্রা আরো তীব্র রূপ নিয়েছে।