পাকিস্তানে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

পাকিস্তানে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা

ছবিঃ সংগৃহিত।

জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর লং মার্চকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কয়েকটি সরকারি স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাজধানীর কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনানুষ্ঠানিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির ৪৮টি স্কুল অন্যান্য জেলা থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জ্বালানি তেলের ওপর অতিরিক্ত কর প্রত্যাহারের দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘ট্রেন মার্চ’ কর্মসূচি শুরু করেছে দেশটির অন্যতম প্রধান ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী (জেআই)।

রাজনৈতিক দলটির রাজধানী অভিমুখে লং মার্চ ঘিরে চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইসলামাবাদে। 

সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, জি-৭ এবং এফ-৭/৩ সেক্টরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছুটি দিয়ে ভবনগুলোতে পুলিশ সদস্যদের অস্থায়ী আবাসন করা হয়েছে। ইসলামাবাদের ২০টির বেশি ফেডারেল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জেলা প্রশাসন ও ফেডারেল পুলিশের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাবসহ বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের এসব প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে।

রাজধানীর মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অনানুষ্ঠানিক ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পুলিশ সদস্যদের পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আরো কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জরুরি ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে ইসলামাবাদের রেড জোনে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বাস চলাচল নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সম্ভাব্য বিক্ষোভ এবং জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানের পরিকল্পিত অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাওয়ালপিন্ডিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ কারণে অন্যান্য জেলা থেকে আসা পুলিশ সদস্যদের থাকার জন্য ৪৮টি স্কুল তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডি জেলা শিক্ষা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন বালোচ বলেছেন, ২১ সেপ্টেম্বর সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকবে। তবে স্কুলগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হলে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে। 

তিনি আরো বলেন, ‘রাওয়ালপিন্ডি জেলার সব স্কুলে ছুটি ঘোষণার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অন্যান্য জেলা থেকে পুলিশ সদস্যরা পৌঁছানোর পর ৪৮টি স্কুল পুরোপুরি পুলিশের ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হবে।’

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে ৪৮টি স্কুল পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এদিকে সম্ভাব্য বিক্ষোভের আশঙ্কায় শহরে ছুটি ঘোষণার বিরোধিতা করেছে অল পাকিস্তান প্রাইভেট স্কুলস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার পক্ষে অবস্থান নেওয়া হয়েছে।