সালমান মুক্তাদিরের ঘটনায় বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলা ষড়যন্ত্রের অংশ : রাশেদ খাঁন
ফাইল ছবি
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় ঢালাওভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ আখ্যা দেওয়া পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। রবিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীনের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তার জমি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে নাজিম উদ্দীনের অফিস মনে করে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় ঢালাওভাবে বিএনপিকে চাঁদাবাজ আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, এটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।
রাশেদ খাঁন নাজিম উদ্দীনকে ‘কুখ্যাত ভূমিদস্যু’ ও আওয়ামী লীগের ‘ডোনার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মামলায় তিনি জেলও খেটেছেন।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময়ে প্রভাব খাটিয়ে সামরিক বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তাদের জমি দখলের পাশাপাশি সম্প্রতি নিউ গিনি প্রোপার্টিজের চারপাশে অবৈধভাবে গেট দিয়ে তাদের চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছেন ওই ব্যক্তি।
সালমান মুক্তাদিরের জায়গাটি ভাড়া নেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, একজন ‘কুখ্যাত ভূমিদস্যুর’ বিতর্কিত জায়গা সালমান মুক্তাদির কেন ভাড়া নেবেন, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ। তাঁর ভাষ্য, পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে সালমান মুক্তাদিরের কখনোই একজন ভূমিদস্যু ও আওয়ামী লীগের ডোনারের কাছ থেকে বিতর্কিত জায়গা ভাড়া নেওয়া উচিত ছিল না।
রাশেদ খাঁনের দাবি, যতটুকু তিনি জানতে পেরেছেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের মালিক শেল্টার পাওয়ার উদ্দেশ্যেই সালমান মুক্তাদিরের কাছে বিতর্কিত জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদির নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি। এমনকি নিউ গিনি প্রোপার্টিজের বিতর্কিত মালিকও দাবি করেননি যে তাঁর কাছে কেউ চাঁদা চেয়েছে।
রাশেদ খাঁনের ভাষ্য, সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তা জমি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে প্রক্রিয়াগত ও আইনগত ভুল করেছেন। তাঁদের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতের দ্বারস্থ হওয়াই উপযুক্ত সমাধান ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এখানে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির নাম আসাটাই অবান্তর। কারণ, তাঁর দাবি অনুযায়ী, দখলকারী ও দখল পুনরুদ্ধারকারী—কেউই বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। তাহলে বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা কেন করা হচ্ছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং অভিযান চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে সামনে বা পেছনে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, কাউকে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। তবে দল হিসেবে বিএনপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে যারা মরিয়া, তাদের ‘অসৎ উদ্দেশ্য’ ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী।