ঢাবি অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত

ঢাবি অধ্যাপক জিনাত হুদা সাময়িক বরখাস্ত

জিনাত হুদা

জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী অবস্থানের কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ঢাবি উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর অধ্যাপক জিনাত হুদার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

অধ্যাপক আলফেছানী আরও জানান, অভিযোগগুলো তদন্তে একটি ট্রাইব্যুনালও গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জিনাত হুদা ঢাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ও সিনেটের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন। ঢাবি নীল দলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়কও তিনি।

এর আগে শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ, নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধের অভিযোগে ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিমকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সিন্ডিকেট।

ওই দিন সিন্ডিকেট সভায় বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এবং তথ্যানুসন্ধান কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সাময়িক বরখাস্ত করা নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক আফরোজা শেলীকে।

অপরদিকে ২৩ জুন আরও তিন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত এবং একজনকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট।

জুলাই অভ্যুত্থানের সময়ের ঘটনায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমল হোসেন ভূঁইয়াকে সাময়িকভাবে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সিন্ডিকেটের এ সভায় জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা লাভলু মোল্লা শিশিরকেও (মুহাম্মদ লাভলু মোল্লা) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া সেদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গান গেয়ে আলোচিত আরেক শিক্ষক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সিন্ডিকেট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গান গেয়ে ভাইরাল হয়েছিলেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে সমালোচনা হয়েছিল।