কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাস বিনির্মাণে কর্মশালা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে টেকসই গ্রিন ক্যাম্পাস বিনির্মাণে কর্মশালা

সংগৃহীত

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসকে পরিবেশবান্ধব, টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল গ্রিন ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল এর উদ্যোগে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন। 

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেল এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান।

এছাড়া কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক উপাচার্য ড. জসিম উদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবিব, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শফি মোহাম্মদ তারেক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিনের প্রাক্তন ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ হারুন চৌধুরী এবং খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রাক্তন ডিসিপ্লিন প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ক্যাম্পাস ৫০ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এবং শালবন বিহারের নিকটবর্তী এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহ্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসটি প্রায় ২১৩ একর জায়গাজুড়ে গড়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন ক্যাম্পাসের প্রকৃতিকে যথাসম্ভব অক্ষুণ্ন রেখে শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে এ অঞ্চলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও পর্যটন বৃদ্ধি পেলেও এর প্রভাব স্থানীয় পরিবেশের ওপর পড়ছে। একটি দায়িত্বশীল ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়েরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। এ কারণে বর্তমান ক্যাম্পাসে পাহাড় ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অক্ষুণ্ন রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং চলতি বছর দুই ক্যাম্পাসে প্রায় ৫ হাজার বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, গ্রিন ক্যাম্পাস কেবল বৃক্ষরোপণ বা আনুষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে মানসিকতার পরিবর্তন, প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার, নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়টি জড়িত। ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেপারলেস কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং একাডেমিক কাউন্সিলের সভাও পেপারলেস পদ্ধতিতে আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশেষজ্ঞরা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাসকে শুধু একটি সবুজ ক্যাম্পাস নয়, বরং পরিবেশ সংরক্ষণ, টেকসই উন্নয়ন, গবেষণা ও শিক্ষার সমন্বয়ে একটি অনুকরণীয় মডেল ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।