নফল নামাজ বসে পড়া যাবে?
ফাইল ছবি
প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ ইবাদত পালন করা আবশ্যক। ফরজ ইবাদত পালন না করলে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতা করতে হবে। ফরজের হিসাব দিলেই তবে আল্লাহ তায়ালা অন্য ইবাদতের হিসাব গ্রহণ করবেন। ফরজের পাশাপাশি নফল ইবাদত করাও জরুরি। কারণ, নফল ইবাদত মানুষের আমলনামার সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং তা আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রিয় করে তোলে।
নফল ইবাদত কিয়ামতের দিন বিশেষ কাজে আসবে। যদি কোনো বান্দার ফরজের ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে আল্লাহ তায়ালা নফলের মাধ্যমে তা পূরণের চেষ্টা করবেন। এজন্য নফল ইবাদত থাকতে হবে। নফল ইবাদত না থাকলে ফরজের ঘাটতি পূরণের কোনো উপায় থাকবে না।
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় কেয়ামতের দিন বান্দার যে কাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে তা হচ্ছে নামাজ। সুতরাং যদি তা সঠিক হয়, তাহলে সে পরিত্রাণ পাবে। আর যদি (নামাজ) খারাপ হয়, তাহলে সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
যদি তার ফরজের (ইবাদতের) মধ্যে কিছু কম পড়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা বলবেন, ‘দেখ তো! আমার বান্দার কিছু নফল (ইবাদত) আছে কি না, যা দিয়ে ফরজের ঘাটতি পূরণ করে দেওয়া হবে?’ অতঃপর তার অবশিষ্ট সমস্ত আমলের হিসাব ঐভাবে গৃহীত হবে। (আবু দাউদ, হাদিস: ৮৬৪)
বসে নফল নামাজ পড়ার বিধান
সুস্থ ও শক্তি-সামর্থ্য থাকলে নফল নমাজ দাঁড়িয়ে আদায় করাই উত্তম। অবশ্য কোনো সমস্যা না থাকলেও নফল নামাজ বসে আদায় করাও জায়েজ আছে। তবে দাঁড়িয়ে আদায় করলে যে সওয়াব হবে কোনো সমস্যা ছাড়া বসে নফল আদায় করলে তার অর্ধেক সওয়াব হবে।
হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে, ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) বলেন, আমি রাসুলকে (সা.) বসে নমাজ আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, যদি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে তবে তাই উত্তম। আর যদি বসে নামাজ আদায় করে তবে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়কারীর অর্ধেক সওয়াব পাবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১১৫)
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো কারণ বা সমস্যা ছাড়া ফরজ ও ওয়াজিব নামাজ বসে আদায় করা জায়েজ নয়।