চতুর্থ শ্রেণি থেকে বইয়ে খেলাধুলা নামে নতুন অধ্যায়: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

চতুর্থ শ্রেণি থেকে বইয়ে খেলাধুলা নামে নতুন অধ্যায়: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আগামী শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে বইয়ে ‘খেলাধুলা’ নামে একটি অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষাও দিতে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুর মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ক্রিকেট একাডেমি ও ড্রেসিংরুম উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকেই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন খেলাধুলা সম্পর্কে পাঠদান করা হবে। এর মধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর বিভিন্ন ইভেন্টসহ অন্যান্য খেলাও থাকবে। খেলাধুলা বিষয়ে লিখিত পরীক্ষার পাশাপাশি মাঠে ব্যবহারিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে। দুই পরীক্ষাতেই ভালো ফল করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত একটি সমন্বিত ক্রীড়া কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, শ্রীমঙ্গল ক্রিকেট একাডেমির মাঠ, ড্রেসিংরুমসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্রীড়া সুবিধা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দেশের বিদ্যমান জেলা স্টেডিয়ামগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি আগে থেকে থাকা মাঠ ও স্টেডিয়ামগুলোকে যথাযথভাবে ব্যবহার উপযোগী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে ফুটবল, ক্রিকেট, সাঁতার, ভলিবল, টেবিল টেনিস, দাবা, আর্চারি, শুটিং ও হকিসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খেলাধুলার নিয়মিত আয়োজনের সুযোগ তৈরি করা হবে। এ লক্ষ্যে জেলা স্টেডিয়াম আধুনিকায়নের জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে। গ্যালারি, ড্রেসিংরুম, প্রেস বক্সসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে স্টেডিয়ামগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

খেলাধুলার সুযোগ তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি নগরের ওয়ার্ড পর্যায়েও ছোট মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, খেলাধুলার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে যুক্ত করা গেলে তাদের মাদকসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে সুস্থ ও সুন্দরভাবে গড়ে তোলা সম্ভব।

শ্রীমঙ্গলের রেলওয়ে মাঠ দখলমুক্ত করার বিষয়ে আমিনুল হক বলেন, যেসব খেলার মাঠ অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে, সেগুলো উদ্ধার করে খেলাধুলার উপযোগী করার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে চায় না; সম্ভাবনাময় খেলাগুলোতে পদকের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায়। এ লক্ষ্যে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ ও প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস ও কমনওয়েলথ গেমসের মতো আন্তর্জাতিক আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এর আগে সকালে শ্রীমঙ্গল শহরের কলেজ রোডে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ক্রিকেট একাডেমি ও ড্রেসিংরুম উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা-বাগানের মাঠ পরিদর্শন করেন তিনি। সেখানে মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান, মাঠের অবকাঠামো ও খেলাধুলার পরিবেশ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মামুনুর রশীদ, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক সরফরাজ আহমদ সরফুসহ ক্রীড়া সংগঠক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ভিক্টোরিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে গাছের চারা রোপণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।