রিভার্স অসমোসিস কী? পানি ফিল্টার করতে এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে

রিভার্স অসমোসিস কী? পানি ফিল্টার করতে এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে

ছবি: সংগৃহীত

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিশুদ্ধ পানীয় জলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু নানা কারণে বর্তমানের প্রাকৃতিক পানির উৎসগুলোতে ক্ষতিকারক রাসায়নিক, ব্যাকটেরিয়া, ভারী ধাতু এবং অতিরিক্ত লবণ মিশে থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই ধরনের দূষিত পানি থেকে সমস্ত ক্ষতিকারক উপাদান দূর করে একে পানের উপযোগী করে তুলতে আধুনিক পানি পরিশোধনে যে প্রযুক্তিটি সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়, তাকে রিভার্স অসমোসিস বা সংক্ষেপে আরও (RO) বলা হয়।

সহজ কথায় রিভার্স অসমোসিস হলো এমন একটি পানি পরিশোধক প্রক্রিয়া, যেখানে বাইরের অতিরিক্ত চাপের সাহায্যে পানির মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক প্রবাহের নিয়মকে উল্টে দেওয়া হয়। স্বাভাবিক অবস্থায় অসমোসিস প্রক্রিয়ায় কম ঘনত্বের দ্রবণ থেকে পানি বেশি ঘনত্বের দ্রবণের দিকে প্রবাহিত হয়। কিন্তু রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তিতে এর বিপরীত ঘটনা ঘটে। উচ্চ চাপের মাধ্যমে পানির অণুগুলোকে একটি বিশেষ আধা-ভেদ্য বা সেমি-পারমেবল মেমব্রেনের মধ্যে দিয়ে চালিত করা হয়, যার ফলে পানির মধ্যে থাকা সমস্ত ক্ষতিকারক ভেজাল ও impurities আটকে যায় এবং কেবল বিশুদ্ধ পানির অণুগুলোই পাস করে বেরিয়ে আসে।

পানি ফিল্টার করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা অতুলনীয়। সাধারণ ফিল্টার যেখানে পানির কেবল দৃশ্যমান ময়লা বা কণা দূর করতে পারে, সেখানে আরও মেমব্রেনের সূক্ষ্ম ছিদ্র এতটাই ছোট হয় যে এটি চোখে না দেখা অতি ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ক্ষতিকারক দ্রবীভূত লবণ, আর্সেনিক, সীসা এবং ফ্লোরাইডের মতো বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদানগুলোকেও খুব সহজেই আলাদা করে দিতে পারে। ফলস্বরূপ, ঘোলা বা লবণাক্ত পানিও এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বাদযুক্ত ও নিরাপদ পানীয় জলে রূপান্তরিত হয়।

বর্তমানে বাড়িতে বা বাণিজ্যিক পরিসরে যে সমস্ত আধুনিক ওয়াটার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা হয়, তার মূল ভিত্তিই হলো এই রিভার্স অসমোসিস প্রযুক্তি। পানির গুণগত মান ও বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বিশ্বস্ত মাধ্যম হিসেবে সমাদৃত। তবে এই প্রক্রিয়ায় পানি পরিশোধনের সময় কিছু পরিমাণ পানি অপচয় হয়, যা আধুনিক উন্নত প্রযুক্তির ফিল্টারগুলোতে রিসাইকেল বা নানা উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হয়। তবুও জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির অবদান অনস্বীকার্য।