নোয়াখালীতে শিশুর মৃত্যু ঘিরে হাসপাতালে ভাঙচুর, তদন্ত কমিটি গঠন

নোয়াখালীতে শিশুর মৃত্যু ঘিরে হাসপাতালে ভাঙচুর, তদন্ত কমিটি গঠন

সংগৃহীত ছবি

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফাতেমা হাসান রিমি নামে দুই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালটিতে ভাঙচুর চালিয়েছেন শিশুটির স্বজনেরা। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনের নির্দেশে এ কমিটি গঠন করা হয়। এর আগে সোমবার বিকেল সোয়া ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালটিতে দফায় দফায় এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যান চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ।

নিহত রিমি উপজেলার হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সিমিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।

শিশুটির স্বজনেরা জানান, সোমবার দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এ সময় শিশুটির হামে আক্রান্ত হওয়ার প্রতিবেদন কর্তব্যরত চিকিৎসককে দেখানো হয়। পরে কর্তব্যরত নার্স শিশুটিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন। এর কিছুক্ষণ পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে হাসপাতালে অক্সিজেন নেই বলে জানানো হয়। পরে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুটির মা উম্মে সালমার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা হাসপাতালের ভেতরে ও বাইরে ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে চাটখিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় নিহত শিশুর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে ইউএনও ও ওসি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শাহরিন আক্তার বলেন, শিশুটি গত এক মাস ধরে অসুস্থ ছিল এবং বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, স্যালাইন চলার সময় শিশুটির মা তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে তা শ্বাসনালিতে আটকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির মধ্যে নিউমোনিয়ার লক্ষণও ছিল। তবে সে হামে আক্রান্ত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটখিল থানার ওসি আবদুল মোন্নাফ বলেন, নিহত শিশুর স্বজনেরা থানায় এসেছেন। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চাটখিলের ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে শিশুটির স্বজনেরা হাসপাতালে কিছু ভাঙচুর চালান।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার জান্নাতুল নাইম কেয়া তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।