রাসুল (সা.) ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন যেভাবে

রাসুল (সা.) ঘরের কাজে স্ত্রীদের সহযোগিতা করতেন যেভাবে

ফাইল ছবি

দাম্পত্য জীবন হলো স্বামী-স্ত্রীর পারস্পরিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্বের সম্পর্ক। এর উদ্দেশ্য দুনিয়া ও আখিরাতে প্রশান্তি ও সুখ অর্জন করা। এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয়েরই পরস্পরের প্রতি অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে।

স্ত্রী যে গৃহস্থালির কাজ করেন, তা তার ওপর শরিয়ত নির্ধারিত আইনগত বাধ্যবাধকতা নয়; বরং পরিবারের কল্যাণে তিনি স্বেচ্ছায় যে সেবা দিয়ে থাকেন, সেটি তার ভালোবাসা ও সহযোগিতার প্রকাশ।

স্বামীর উচিত স্ত্রীর এই আন্তরিকতাকে সবসময় মূল্য দেওয়া। সাংসারিক কাজকে স্ত্রীর জন্য কোনো আইনগত দাবি হিসেবে দেখা উচিত নয়। একই সঙ্গে ঘরের সব কাজ একা স্ত্রীর ওপর ছেড়ে দেওয়াও ঠিক নয়। সামর্থ্য থাকলে স্বামীর উচিত তার জন্য গৃহকর্মে সহায়তার ব্যবস্থা করা এবং নিজেও এসব কাজে তাকে সহযোগিতা করা।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি, যখন অনেক মুসলিমই ইসলামের মহৎ শিক্ষাগুলো সম্পর্কে অবগত নন। তারা নিজেদের দৈনন্দিন জীবনে এসব শিক্ষা অনুসরণ করেন না। বরং তারা যে সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে বসবাস করেন, তার প্রভাবেই বেশি প্রভাবিত হন। তাই মুসলিমরা বাস্তবে যা করেন, তার সবকিছুকে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় না।

ইসলামের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বর্তমান মুসলিমদের আচরণের দিকে তাকানো উচিত নয়। বরং পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহতে নির্ধারিত ইসলামী নীতির দিকে ফিরে তাকাতে হবে।

ইসলাম স্ত্রীর দায়িত্বকে স্বামীর দায়িত্বের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দিয়েছে এ কথা সঠিক নয়। বরং রাসুলুল্লাহ (সা.) তার বিভিন্ন হাদিসে নারীদের অধিকারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। এমন হাদিসের সংখ্যা সম্ভবত স্বামীর অধিকারের কথা বলা হাদিসের চেয়েও বেশি।

এর কয়েকটি উদাহরণ হলো,

১. রাসুলুল্লাহ (সা.)  বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে-ই, যে তার স্ত্রীর কাছে সর্বোত্তম। (তিরমিজি)

২. তিনি আরও বলেছেন, কোনো মুমিন পুরুষ যেন কোনো মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে। তার কোনো একটি স্বভাব অপছন্দ হলে তার অন্য কোনো স্বভাব তার পছন্দ হতে পারে। (মুসলিম)

৩. তিনি বলেছেন, নারীদের বিষয়ে আমার উপদেশ গ্রহণ করো এবং তাদের সঙ্গে ন্যায়সংগত আচরণ করো। (তিরমিজি)

এই উদাহরণগুলোই নারীদের অধিকারের প্রতি রাসুলুল্লাহর (সা.) গভীর গুরুত্বারোপের বিষয়টি তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট। এমনকি বিদায় হজের সময় দেওয়া তার শেষ খুতবার একটি উল্লেখযোগ্য অংশে তিনি স্ত্রীর প্রতি পুরুষের দায়িত্ব ব্যাখ্যা ও গুরুত্বসহকারে তুলে ধরেছিলেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) অনেক দায়িত্বের অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও নিজ হাতে ঘরের অনেক কাজ করতেন। তিনি ছাগলের দুধ দোহন করতেন, নিজের কাপড়ও ধুয়ে নিতেন। তার সুন্নাহতে এমন কোনো দৃষ্টান্ত পাওয়া যায় না যে, তিনি কখনো তার কোনো স্ত্রীকে এসব কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে তার সম্মানিত স্ত্রীগণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশ ছাড়াই স্বেচ্ছায় এসব গৃহস্থালির কাজ করতেন। 

হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) নিজের জুতায় তালি লাগাতেন ও কাপড় সেলাই করতেন। তিনি বাড়ীর কাজ করতেন যেমন তোমরা করে থাক।’ ( ইবনে হিববান, হাদিস: ৬৪৪০)। 

তিনি বলেন, ‘তিনি অন্যান্য মানুষের মত একজন মানুষ ছিলেন। নিজের কাপড়ের উকুন নিজে বাছাই করতেন। বকরী দোহন করতেন ও নিজের কাজ নিজে করতেন’ (শামায়েলে তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩)