ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
সংগৃহীত
ফ্রান্সজুড়ে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ দমনে স্টান গ্রেনেড ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে এই গ্রেনেডের আঘাতে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। বুধবার বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জানিয়েছেন, সোমবার লেন্স শহরে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রকৃত তথ্য বা পরিস্থিতি ‘পরিষ্কার না হওয়া’ পর্যন্ত তিনি এই স্থগিতাদেশের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কারণ এ বিষয়ে বিক্ষোভকারী ও সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।
তিনি বলেন, “পুলিশের এমন একটি পদক্ষেপ রয়েছে যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সবার মনেই প্রশ্ন জাগিয়েছে—আর তা হলো লেন্স শহরের ঘটনাটি। এই ঘটনার প্রকৃত তথ্য পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত" স্টান গ্রেনেড ব্যবহার স্থগিত রাখা হবে।”
কর্তৃপক্ষের দাবি, কিশোরটি গ্রেনেডটি হাতে তুলে নেওয়ার পরই সেটি বিস্ফোরিত হয়; তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পুলিশের এক সদস্য গ্রেনেডটি ছোড়ার পর সেটি সরাসরি তাকে আঘাত করে।
স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার (প্রিফেক্ট) ভাষ্যমতে, ২০০ থেকে ২৫০ জন শিক্ষার্থীর একটি দল যখন পাথর ও আতশবাজি ছুড়ে পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান করছিল, তখনই এই ঘটনাটি ঘটে।
স্টান গ্রেনেড বা শব্দ ও আলোর ঝলকানি সৃষ্টিকারী গ্রেনেডকে সাধারণত প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে বিস্ফোরিত হওয়ার সময় এটি থেকে ছোট ছোট রাবারের গুলি বা পেলেট ছড়িয়ে পড়ে।
বুধবার সকালেও ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। পাঁচ শতাধিক স্কুল পুরোপুরি বা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্কুল-সংক্রান্ত এই বিক্ষোভ নিয়ে সন্ধ্যায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নুর।
ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার্দ জেফ্রে জানিয়েছেন, ২৪টি স্কুলে এমন মাত্রায় অগ্নিসংযোগ বা ভাঙচুর চালানো হয়েছে যে সেগুলো কয়েক সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হবে, যার ফলে ৩০ হাজার শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
স্কুলের পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার দাবিতে মঙ্গলবার হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে; কিছু শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ঘটনায় ৪৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ৪৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেস ফরাসি রেডিও আরটিএলকে বলেন, পুলিশের কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা আইজিপিএন ১৮টি তদন্ত শুরু করেছে। বিক্ষোভের সময় পুলিশ সদস্যরা ‘যথাযথ বা আনুপাতিক’ বলপ্রয়োগ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই তদন্তের উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ এখন তাদের অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।