জাজিরায় পল্লী চিকিৎসকের ইনজেকশনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

জাজিরায় পল্লী চিকিৎসকের ইনজেকশনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

প্রতিকি ছবি

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় পিঠের ফোঁড়ার চিকিৎসা নিতে গিয়ে সামিয়া (৪) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে ইনজেকশন নেওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার মেহেরখার কান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত সামিয়া ওই এলাকার প্রবাসী হান্নান ফকির ও লায়লা দম্পতির মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে সামিয়ার পিঠে একটি ফোঁড়া হয়। পরে তার দাদা-দাদি তাকে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে মনির নামের এক পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে ফোঁড়া কাটার আগে ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, প্রথম ইনজেকশনে কাজ না হওয়ায় একে একে চারটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। এরপরই শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে লুটিয়ে পড়ে।

পরে সামিয়াকে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

এদিকে সামিয়ার মায়ের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার মেয়েকে হত্যা করেছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর থেকে শিশুটির দাদা-দাদি ও সংশ্লিষ্ট পল্লী চিকিৎসককে পাওয়া যাচ্ছে না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহম্মেদ বলেন, পিঠের ফোঁড়ার চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে পল্লী চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে ইনজেকশন দেওয়ার পর সে ঝিমিয়ে পড়ে। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।