জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে ইসলামি বক্তাদের এআই ভিডিও
ছবিঃ সংগৃহিত।
ইসলামী বক্তাদের নামে তৈরি একাধিক এআই ভিডিও ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মন্তব্য করতে শোনা যায়।
এসকল বক্তাদের মধ্যে আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান, মিজানুর রহমান আজহারী ও শায়খ আহমাদুল্লাহের ভিডিও শনাক্ত করেছে ফ্যাক্ট চেকার প্রতিষ্ঠান দ্য ডিসেন্ট। তাদের চারটি ভাইরাল ভিডিও শনাক্ত করেছে দ্য ডিসেন্ট।
দ্য ডিসেন্ট ফ্যাক্ট চেকার করে দেখছে, ভিডিওগুলো এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে। তবে অনেকে এগুলোকে আসল বক্তব্য মনে করে শেয়ার ও কমেন্ট করছেন।
একটি ভাইরাল ভিডিওতে জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানকে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বক্তব্য দিতে শোনা যায়।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “জামাতের কতগুলো মূর্খ নতুন আলেম জন্ম নিছে, না আছে কোরআনের জ্ঞান না আছে হাদিসের জ্ঞান। তারা আবদুল মালেক হাফিজাহুল্লাহর ব্যাপারে বলেন, তার নাকি ইসলামের জ্ঞান কম। আমি মনে করি জামাতের যত আলেম আছে, জামাতের চৌদ্দ গুষ্টি মিলে আবদুল মালেক হাফিজাহুল্লাহর পায়ের ধুলার যোগ্য হবে না। তার এলেম সম্পর্কে জামাতের ধারণা নেই।”
দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত। এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল হাইভ মডারেশনের বিশ্লেষণে ভিডিওটি ৯৯.৯ শতাংশ এআই-জেনারেটেড এবং এতে ব্যবহৃত মিউজিক ৯৮.২ শতাংশ এআই-জেনারেটেড বলে শনাক্ত হয়েছে।
অন্যদিকে, সিন্থ আইডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভিডিওটি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদনা করা হয়েছে।
একই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছে আরেক জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর নামেও। তার নামে প্রচারিত এআই ভিডিওতেও আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনানের নামে ছড়ানো ভিডিওর হুবহু একই বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে।
হাইভ মডারেশনের বিশ্লেষণে আজহারীর নামে প্রচারিত ভিডিওটি ৯৯.৮ শতাংশ এআই-জেনারেটেড এবং এতে ব্যবহৃত মিউজিক ৯৯.১ শতাংশ এআই-জেনারেটেড বলে শনাক্ত হয়েছে।
সিন্থ আইডির বিশ্লেষণেও ভিডিওটি গুগল এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত বলে শনাক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ, ভিডিও দুটিতে বক্তার পরিচয় আলাদা হলেও জামায়াতকে নিয়ে প্রচারিত বক্তব্য হুবহু একই।
জামায়াত-শিবিরকে জড়িয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহর নামে আরও দুটি এআই ভিডিও জনপ্রিয় ইসলামী বক্তা শায়খ আহমাদুল্লাহর নামেও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বক্তব্যসংবলিত দুটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রথম ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “এই জামায়াত শিবির যতটা ইসলামের ক্ষতি করেছে, একজন নাস্তিক, মুনাফিকরাও ততটা ইসলামের ক্ষতি করতে পারে নাই। তারা বলে আ মরা ইসলামের শরীয়া আইন চাই, অথচ মেয়েদেরকে তারা এতটাই পছন্দ করে জামায়াতের প্রত্যেক নেতাকর্মী মেয়ে পাগল। মেয়ে দেখলে আল্লাহর দেওয়া ফরজ বিধানও তারা ভুলে যায়।”
অন্য একটি ভিডিওতে আহমাদুল্লাহর নামে জামায়াত-শিবিরের সমর্থক ও সমালোচকদের নিয়ে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, “জানেন, জামায়াত-শিবির এখন এমন কিছু ন্যারেটিভ তৈরি করছে যে, তাদের বিরুদ্ধে যে-ই কথা বলুক না কেন সে হয়ে যায় ভারতের দালাল, বিএনপির গোলাম, বিএনপির পা-চাটা ব্যক্তি। আর যদি জামায়াত-শিবিরের পক্ষে বলে, তাহলে সে আল্লাহর যত পাপী বান্দা হোক না কেন, সে হয়ে যায় জান্নাতি ব্যক্তি, চরম পরহেজগার ব্যক্তি। এমন ভণ্ডামি জামায়াত-শিবিরকে ছাড়তে হবে। প্রিয় ভাইয়েরা, জামায়াতে যদি কোনো মূর্খ যোগদান করে, তাহলে সে মূর্খ বড় আলেম হয়ে যায়; আর অন্য দলের শিক্ষিতরাও মূর্খ হয়ে যায়।”
দ্য ডিসেন্টে যাচাই করে দেখেছে, শায়খ আহমাদুল্লাহর নামে প্রচারিত এই দুটি ভিডিও এআই তৈরিকৃত বা সম্পাদিত।