খিদে নেই তবু সারাক্ষণ খাওয়ার প্রবণতা, কিভাবে কমাবেন ‘ফুড নয়েজ’

খিদে নেই তবু সারাক্ষণ খাওয়ার প্রবণতা, কিভাবে কমাবেন ‘ফুড নয়েজ’

ফাইল ছবি

দুপুরে এক প্লেট ভাত খেয়ে ওঠার পরপরই ফ্রিজ খুলে মিষ্টি খোঁজা, বিকেলে ফুচকা বা মোমোর দোকানে ছোটায় অভ্যস্ত অনেকেই। এমনকি অফিসে ডেস্কে বসে একটানা চিপস, বিস্কুট বা চকোলেট খাওয়ার প্রবণতাও দেখা যায়।

অথচ মাঝেমধ্যে কোনো প্রকৃত খিদে থাকে না, তবুও যেন সারাক্ষণ মুখ চলতে থাকে।

মনোবিজ্ঞান ও পুষ্টিবিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থাকে বলা হয় ‘ফুড নয়েজ’। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা, যেখানে পেট ভর্তি থাকলেও মস্তিষ্কে কেবল মুখরোচক খাবার নিয়ে চিন্তা ঘুরপাক খায়। সহজ কথায়, আপনার সত্যিই খিদে পেয়েছে কি না, তার ওপর এটি নির্ভর করে না; বরং আপনার মস্তিষ্ক বারবার খাবারের কথাই ভাবতে থাকে।

কেন তৈরি হয় ‘ফুড নয়েজ’                                                                                                              বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাক্ষণ খাবার নিয়ে এই আচ্ছন্নতা তৈরি হওয়ার পেছনে বেশ কিছু শারীরিক ও মানসিক কারণ কাজ করে।

মানসিক চাপ ও একাকিত্ব: অতিরিক্ত উদ্বেগ, মানসিক চাপ বা মন খারাপের সময় শরীরে যে ‘স্ট্রেস হরমোন’ নির্গত হয়, তা মিষ্টি বা উচ্চ ক্যালোরির কমফোর্ট ফুডের প্রতি আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দেয়। এই ধরনের খাবার সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে তৃপ্তির অনুভূতি আনে।

ইন্দ্রিয়ভিত্তিক উদ্দীপনা: লোভনীয় খাবারের দৃশ্য দেখলে কিংবা নাকে সুস্বাদু খাবারের সুবাস ভেসে এলে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’ বা পুরস্কৃত করার প্রক্রিয়াটি সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এর ফলে খিদে না থাকলেও খাওয়ার প্রবল ইচ্ছা জাগে।

খাদ্যাভ্যাসের অনিয়ম: সময়মতো খাবার না খাওয়া কিংবা ডায়েটে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবারের ঘাটতি থাকলে শরীরে শক্তির অভাব দেখা দেয়। পুষ্টির এই ঘাটতি মেটানোর জন্যই মস্তিষ্ক বারবার খাবারের কথা ভাবতে শুরু করে।

অপর্যাপ্ত ঘুম: রাতে ঠিকমতো ঘুম না হলে বা বারবার ঘুম ভেঙে গেলে খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে পেট ভরা থাকলেও মস্তিষ্ক সুস্বাদু খাবারের খোঁজ করতে থাকে।

মুক্তির উপায় বা করণীয়:

‘ফুড নয়েজ’-এর এই চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। যেমন—

সুষম খাবার খাওয়া: খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন ও ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রাখুন এবং কোনো বেলা খাওয়া বাদ দেবেন না। নির্দিষ্ট সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস করুন।

প্রলোভন দূরে রাখা: হাতের কাছে অস্বাস্থ্যকর মুখরোচক খাবার বা স্ন্যাকস রাখবেন না। প্রয়োজনে মোবাইল থেকে ফুড ডেলিভারি অ্যাপগুলো সরিয়ে ফেলতে পারেন, যাতে হুট করে অর্ডার করার প্রবণতা কমে।

ঘুমের সঙ্গে আপস না করা: প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম নিশ্চিত করুন।

মনকে ভিন্ন দিকে ঘোরানো: খাবার খাওয়ার তীব্র ইচ্ছে জাগলে বোঝার চেষ্টা করুন এটি প্রকৃত খিদে নাকি মানসিক তাড়না। সে সময় অন্য কোনো কাজে মন দিন বা হাতের কাছে স্বাস্থ্যকর কোনো স্ন্যাকস (যেমন ফল বা বাদাম) রাখতে পারেন।

সচেতন জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই মানসিক আচ্ছন্নতা কাটিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবন বজায় রাখা সম্ভব।