ফেনীতে বাড়ছে অপরাধ, নিরাপত্তাহীনতায় বাসিন্দারা
ফাইল ছবি
চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক ও নারী-শিশু নির্যাতনসহ নানা অপরাধের ঘটনায় ফেনীতে উদ্বেগ বাড়ছে। বাসাবাড়িতে চুরি-ডাকাতি ও সড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বাসিন্দারা। জেলা পুলিশের পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে অপরাধের বিস্তৃত চিত্র। এ পরিস্থিতিতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশি তৎপরতা, নিয়মিত টহল ও কার্যকর নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ফেনী শহরের পুলিশ কোয়ার্টার এলাকায় একটি বাসা থেকে চার ভরি স্বর্ণালংকার ও ৭০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগের দিন সদর উপজেলার মধ্যম ধলিয়া গ্রামে পাঁচটি বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। এ সময় এক গৃহবধূর কানের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তাঁর কান কেটে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। এর আগে গত ১৯ আগস্ট শহরের মহিপাল এলাকায় প্রবাসী মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের বাসায় ডাকাতির ঘটনায় ১৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও প্রায় ১০ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ ওঠে। এসব ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জেলা পুলিশের অপরাধ শাখার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে জেলায় বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১৯১টি অপরাধ ও ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মাদকসংক্রান্ত ঘটনা ৩০০টি, নারী ও শিশু নির্যাতন ১৪০টি, চুরি ১১৪টি এবং সড়ক দুর্ঘটনা ৫৫টি। এ ছাড়া হত্যা ও চোরাচালানের ঘটনা ১৮টি করে, দস্যুতার ঘটনা ১৬টি, অস্ত্রসংক্রান্ত ঘটনা পাঁচটি এবং ডাকাতির ঘটনা তিনটি। অন্যান্য অপরাধ ও ঘটনার সংখ্যা ৫২২টি।
উপজেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ফেনী সদরে সর্বাধিক ৫৫৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া ছাগলনাইয়ায় ১৯৩টি, দাগনভূঞায় ১৬৩টি, সোনাগাজীতে ১৫৫টি, ফুলগাজীতে ৭৮টি এবং পরশুরামে ৪৬টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
ফেনী সদর মডেল থানার এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের তথ্য অনুযায়ী, চুরি ও চুরির চেষ্টার ঘটনায় ৩৬টি, ডাকাতির প্রস্তুতির ঘটনায় পাঁচটি, ডাকাতির ঘটনায় একটি, ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয়টি এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় পাঁচটি মামলা নথিভুক্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুরঞ্জিত নাগ বলেন, এলাকায় চুরি-ডাকাতির ঘটনায় তাঁরা উদ্বিগ্ন। কখন কী ঘটে, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা কাজ করে। রাতে নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। পুলিশের টহল বাড়ানোর পাশাপাশি অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জসীম উদ্দিন বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে। চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থাকলে স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল নিশ্চিত করা দরকার।
ফেনী জজ আদালতের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, বাসাবাড়ি ভাড়া দেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা উচিত। এতে অপরাধ সংঘটনের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা হতে পারে।
ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, বিভিন্ন মামলার আসামি ও জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার দেড় শতাধিক ব্যক্তির মধ্যে অর্ধেকই অন্য জেলার বাসিন্দা।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবুল করিম বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো, নিয়মিত টহল এবং অপরাধের ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে ফেনীতে জননিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে।