তাজমিন হত্যার ঘটনায় রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্তের নির্দেশ

তাজমিন হত্যার ঘটনায় রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্তের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় কক্সবাজারের হোটেলকর্মী রিয়াজ উদ্দিন রাজু ওরফে রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে করা আবেদন মামলা হিসেবে নথিভুক্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে করা ওই অভিযোগ কক্সবাজার সদর থানায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান।

তিনি জানান, তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে আসা এবং সেখানে ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হলে আদালত তা মামলা হিসেবে নথিভুক্তের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার সদর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইরফানুল হক চৌধুরীর আদালতে আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ রাজুর বিরুদ্ধে অভিযোগটি উপস্থাপন করেন। অভিযোগে বলা হয়, রাজু তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তাজমিনের বয়সের বিষয়টিও আদালতের নজরে আনা হয়। পরে আদালত অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করার নির্দেশ দেন।

আইনজীবী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, রাজু তাজমিনকে কক্সবাজারে না আনলে কুমিল্লায় যাওয়ার পথে তার সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটত না। তার অভিযোগ, রাজু মিথ্যা পরিচয় ও ভালোবাসার অভিনয়ের মাধ্যমে কিশোরী তাজমিনকে কক্সবাজারে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি তাকে ব্যথিত করেছে। বিবেকের তাড়না থেকেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানান।

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের মধ্যেই রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে নতুন এ মামলা হলো। এর আগে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার লুলুয়া রিসোর্টের সামনে থেকে রাজুকে গ্রেপ্তার করে সদর মডেল থানা-পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় রাজুকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ জন্য কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল কক্সবাজারে যায়। তবে রাজুকে হস্তান্তর ও কুমিল্লায় নেওয়ার বিষয়ে আইনগত জটিলতা তৈরি হয়। পরে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রাজুকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানান , রাজু নিজেকে হোটেলমালিকের ছেলে পরিচয় দিয়ে তাজমিনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে তাকে প্রলুব্ধ করে কক্সবাজারে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগতপুর উত্তরপাড়ার একটি ধানখেতের আইল থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিএনজিচালক সুমনকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলার তদন্তের পাশাপাশি রাজুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগেরও তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।