ফ্রেঞ্চ ফ্রাই যেভাবে সংরক্ষণ করলে ৬ মাস খেতে পারবেন
ছবিঃ সংগৃহীত।
বাড়িতে আলুভাজা খেতে ইচ্ছে না করলেও রেস্তোরাঁয় বার্গার বা চিকেন ফ্রাইয়ের সঙ্গে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে ভালোবাসেন।সোনালি রঙের মুচমুচে এই খাবার নিমেষেই শেষ হয়ে যায় প্লেট থেকে। তবে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেতে বারবার রেস্তোরাঁয় না গিয়ে কয়েকটি সহজ কৌশল মেনে বাড়িতেই বানিয়ে নিতে পারেন।
অনেক সময় বাড়িতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরি করলেও তা রেস্তোরাঁর মতো মুচমুচে হয় না। ভাজার কিছুক্ষণ পরই নরম হয়ে যায়। তবে সঠিক আলু বেছে নেওয়া এবং প্রস্তুত করার কয়েকটি ধাপ মেনে চললে এই সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব। শুধু তা-ই নয়, আগে থেকে তৈরি করে ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে প্রয়োজনমতো ভেজেও নিতে পারবেন।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির জন্য আলু বাছাই করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের আলু দিয়ে সমান ভালো ফল পাওয়া যায় না। তুলনামূলক বেশি স্টার্চ ও কম আর্দ্রতাযুক্ত আলু ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের জন্য ভালো। এমন আলু ভাজলে বাইরের অংশ মুচমুচে এবং ভেতরের অংশ নরম থাকে।
যেভাবে সংরক্ষণ করবেন
বাড়িতে একবারে বেশি পরিমাণে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরি করে রাখতে চাইলে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করাও জরুরি। তবে কাঁচা আলু কেটে শুধু ফ্রিজে রাখার বদলে আংশিক সিদ্ধ বা হালকা ভেজে ঠান্ডা করে ফ্রিজারে সংরক্ষণ করা ভালো। পরিষ্কারভাবে প্যাকেটবন্দি করে ফ্রিজারের উপযুক্ত তাপমাত্রায় রাখলে ৬ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব। পরে প্রয়োজনমতো সরাসরি গরম তেলে ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই তৈরির উপকরণ
বড় আলু ৩টি, লবণ ১ টেবিল চামচ এবং ডুবো তেলে ভাজার জন্য প্রয়োজনমতো তেল লাগবে। আলু সিদ্ধ করার পানিতে লবণ ব্যবহার করলে স্বাদ ভালো হয়। তবে পানিতে লবণের পরিমাণ নিজের পছন্দ অনুযায়ী কমিয়ে নিতে পারেন।
যেভাবে তৈরি করবেন মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই
প্রথমে আলু ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এরপর ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ের মতো লম্বা ও সরু করে কেটে নিন। কাটা আলু ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এতে আলুর অতিরিক্ত স্টার্চ কিছুটা বেরিয়ে যাবে। এবার একটি হাঁড়িতে পানি গরম করে তাতে সামান্য লবণ দিন। পানি ফুটে উঠলে আলুর টুকরোগুলো দিয়ে ৩ মিনিট সিদ্ধ করুন। খেয়াল রাখবেন, আলু যেন পুরোপুরি নরম হয়ে না যায়। এরপর আলুগুলো তুলে কিচেন টাওয়েলের ওপর ছড়িয়ে দিন। আরেকটি টাওয়েল দিয়ে আলতো করে চেপে অতিরিক্ত পানি মুছে নিন।
দুবার ভাজলেই মিলবে মুচমুচে ভাব
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই মুচমুচে করার অন্যতম কৌশল হলো দুবার ভাজা। প্রথমে প্যানে ডুবো তেল মাঝারি আঁচে গরম করুন। তেল গরম হলে আলুর টুকরোগুলো অল্প অল্প করে ছেড়ে প্রায় ৩ মিনিট ভাজুন। এই পর্যায়ে আলু পুরোপুরি সোনালি করার প্রয়োজন নেই।
আলুগুলো কিছুটা শক্ত হলে তুলে নিন। একসঙ্গে অনেক আলু দিলে তেলের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে, তাই অল্প অল্প করে ভাজাই ভালো। ভাজা আলুগুলো কিচেন টাওয়েলের ওপর ছড়িয়ে ১০ মিনিট ঠান্ডা হতে দিন।
এরপর একটি পাত্রে রেখে ফ্রিজে প্রায় ৩০ মিনিট রাখুন। আরও ভালো ফল পেতে আলুগুলো ফ্রিজারে অল্প সময় রেখে বাইরের অংশ শক্ত করে নিতে পারেন, তবে জমাট বাঁধার সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এবার দ্বিতীয়বার ভাজার পালা। তেল ভালোভাবে গরম হলে আলুর টুকরোগুলো অল্প অল্প করে ছেড়ে সোনালি ও মুচমুচে হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। ভাজার পর তুলে অতিরিক্ত তেল ঝরিয়ে নিন। গরম থাকতেই স্বাদমতো লবণ ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।