রোজ এক কাঁধে ব্যাগ নেন? শরীরে কী প্রভাব পড়ছে জানেন
ফাইল ছবি
বাড়ি থেকে অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা বাজারে যাওয়া—প্রতিদিনই ব্যাগ বহন করতে হয় অনেককে। কেউ কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ ব্যবহার করেন, আবার কেউ ল্যাপটপ বা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে বের হন।
কিন্তু খেয়াল করলে দেখা যায়, অনেকে প্রতিদিন একই কাঁধে ব্যাগ ঝোলান। প্রথম দিকে তেমন অস্বস্তি না হলেও, ব্যাগ ভারী হলে বা দীর্ঘক্ষণ বহন করলে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে চাপ পড়তে পারে।
একই কাঁধে নিয়মিত ব্যাগ বহনের অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যাগের ওজন, বহনের ধরন এবং নিজের শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
এক কাঁধে ব্যাগ নিলে কী হতে পারে?
এক কাঁধে ব্যাগের ভার পড়লে শরীরকে ভারসাম্য বজায় রাখতে কিছুটা ভঙ্গি বদলাতে হয়। ব্যাগের ভার সামলাতে কাঁধ উঁচু হয়ে যেতে পারে কিংবা শরীর সামান্য একদিকে হেলে থাকতে পারে। এতে ঘাড়, কাঁধ ও পিঠের পেশিতে অসম চাপ তৈরি হতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ এভাবে ব্যাগ বহন করলে পেশিতে ক্লান্তি, কাঁধে টান, ঘাড়ে ব্যথা কিংবা পিঠের ওপরের অংশে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
ব্যাগ বেশি ভারী হলে বা প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হাঁটতে হলে সমস্যা বাড়তে পারে। আগে থেকেই ঘাড়-কাঁধে ব্যথা থাকলে কিংবা দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করার অভ্যাস থাকলে অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।
তবে শুধু এক কাঁধে ব্যাগ বহন করলেই যে মেরুদণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি হবে, এমনটি বলা যায় না। ব্যাগের ওজন, কতক্ষণ বহন করা হচ্ছে এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব নির্ভর করে।
ব্যাগ বহনের অভ্যাস বদলাবেন যেভাবে
১. ব্যাগের ওজন কমান
প্রতিদিন ব্যাগে কী কী জিনিস নিচ্ছেন, তা দেখে নিন।
অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিন। ব্যাগ যত হালকা হবে, কাঁধ ও পিঠের ওপর চাপও তত কম পড়বে।
২. সম্ভব হলে দুই কাঁধে ব্যাগ নিন
পিঠে বহন করার ব্যাগ ব্যবহার করলে দুই কাঁধের স্ট্র্যাপই ব্যবহার করুন। এতে ভার দুই কাঁধে তুলনামূলকভাবে সমানভাবে বণ্টিত হয়। স্ট্র্যাপ এমনভাবে ঠিক করুন, যাতে ব্যাগটি পিঠের কাছাকাছি থাকে এবং খুব নিচে ঝুলে না পড়ে।
৩. এক কাঁধে ঝোলানো ব্যাগের দিক বদলান
হ্যান্ডব্যাগ বা এক কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ ব্যবহার করলে প্রয়োজন অনুযায়ী দুই কাঁধ পাল্টে নিন। তবে শুধু কাঁধ বদলালেই ভারী ব্যাগের চাপ পুরোপুরি দূর হবে না। সম্ভব হলে ব্যাগের ওজনও কমিয়ে রাখুন।
৪. দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে থাকবেন না
দীর্ঘ পথ হাঁটার সময় বা অনেকক্ষণ ব্যাগ বহন করতে হলে সুযোগমতো বিরতি নিন। ঘাড় ও কাঁধে অস্বস্তি শুরু হলে ব্যাগ নামিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন।
৫. নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
ঘাড়, কাঁধ, পিঠ ও শরীরের মধ্যভাগের পেশি সচল ও শক্তিশালী রাখতে নিয়মিত উপযোগী শরীরচর্চা সহায়ক হতে পারে। তবে ব্যথা থাকলে নিজের ইচ্ছেমতো কঠিন ব্যায়াম শুরু না করে চিকিৎসক বা ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
ব্যাগ বহনের পর সামান্য ক্লান্তি বা অস্বস্তি হলে বিশ্রাম ও অভ্যাস পরিবর্তনে উপকার মিলতে পারে। কিন্তু ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে, ক্রমশ বাড়তে থাকলে কিংবা হাত অবশ হয়ে আসা, ঝিনঝিন করা বা দুর্বলতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসও শরীরের স্বাচ্ছন্দ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই ব্যাগের ওজন কম রাখা, সঠিকভাবে বহন করা এবং শরীরের সংকেত খেয়াল করাই ঘাড়-কাঁধের অস্বস্তি এড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায়।