বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি জিনায় জড়ালে ইসলামের দৃষ্টিতে কার, কী শাস্তি?
ফাইল ছবি
জিনা ও ব্যভিচার মারাত্মক গুনাহগুলোর একটি। ইসলামের দৃষ্টিতে জিনা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা একে অশ্লীল ও মন্দ কাজ বলে অভিহিত করেছেন। বর্ণিত হয়েছে, আর তোমরা ব্যভিচারের কাছে যেয়ো না, নিশ্চয় তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ। (সুরা বনী-ইসরাঈল, আয়াত, ৩২)
আরেক আয়াতে বলা হয়েছে, হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না। (সুরা মুমতাহিনা, আয়াত: ১২)
রাসুল (সা.) বলেছেন, হে মুসলমানগণ ! তোমরা ব্যভিচার পরিত্যাগ কর। কেননা এর ছয়টি শাস্তি রয়েছে। মন্দ পরিণতি এর মধ্যে তিনটি দুনিয়াতে ও তিনটি আখেরাতে প্রকাশ পাবে। যে তিনটি শাস্তি দুনিয়াতে হয় তা হচ্ছে,তার চেহারার ঔজ্জ্বল্য বিনষ্ট হয়ে যাবে, তার আয়ুষ্কাল সংকীর্ণ হয়ে যাবে এবং তার দারিদ্রতা চিরস্থায়ী হবে। আর যে তিনটি শাস্তি আখেরাতে প্রকাশ পাবে তা হচ্ছে, সে আল্লাহর অসন্তোষ, কঠিন হিসাব ও জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করবে। (বায়হাকী)
ব্যভিচারের সময় মানুষ ঈমানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে দূরে থাকে। এক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কোন ব্যক্তি যখন ব্যভিচার করে তখন তার ভেতর থেকে ঈমান বেরিয়ে যায়,এরপর তা তার মাথার উপর ছায়ার মত অবস্থান করতে থাকে। এরপর সে যখন তা থেকে তওবা করে তখন তার ঈমান পুনরায় তার কাছে ফিরে আসে। (আবু দাউদ)
আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন না, তাদের দিকে তাকাবেন না, তাদেরকে পবিত্রও করবেন না এবং তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক কঠোর শাস্তি নির্ধারিত থাকবে। তারা হচ্ছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যাবাদী শাসক এবং অহংকারী গরীব। (মুসলিম ও নাসায়ী)
বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি জিনায় জড়ালে কার কী শাস্তি?
বিবাহিত ও অবিবাহিত ব্যক্তি পারস্পরিক সম্মতিতে জিনায় লিপ্ত হলে এবং শরিয়তসম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হল ইসলামী বিধানে তাদের জন্য পৃথক শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে মনে রাখা জরুরি, এ শাস্তি কার্যকরের অধিকার কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের নেই; এটি ইসলামী সরকার ও বিচার বিভাগের এখতিয়ারের অন্তভুর্ক্ত।
শয়তানের ধোকায় পড়ে বিবাহিত ও অবিবাহিত দুজন পারস্পরিক সম্মতিতে জিনায় লিপ্ত হলে এবং শরিয়তসম্মত সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রমাণিত হলে, বিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে রজম (পাথর ছুড়ে মারা) এবং অবিবাহিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ১০০ বেত্রাঘাতের বিধান রয়েছে বলে ফিকহি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে একজনের বৈবাহিক অবস্থার কারণে অন্যজনের জন্য নির্ধারিত শাস্তি পরিবর্তিত হবে না। বরং প্রত্যেকের ক্ষেত্রে তার নিজস্ব অবস্থা অনুযায়ী বিধান প্রযোজ্য হবে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী; তাদের প্রত্যেককে তোমরা একশ করে বেত্রাঘাত করবে। আল্লাহর বিধান কার্যকরী করণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবিত করতে না পারে যদি তোমরা আল্লাহ তায়ালা ও পরকালে বিশ্বাসী হয়ে থাকো এবং মুমিনদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। (সুরা আন-নূর, আয়াত: ২)
তবে মনে রাখতে হবে জিনার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে শরিয়ত নির্ধারিত হদ কার্যকর করার অধিকার ইসলামী সরকার ও বিচার বিভাগের। কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা সাধারণ মানুষ নিজের উদ্যোগে এ ধরনের শাস্তি কার্যকর করতে পারবেন না।