‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

‘পরমাণু অস্ত্র পেলেই ব্যবহার করবে ইরান’, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

ছবি সংগৃহীত।

ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জন করলে তা ব্যবহার করতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর আশঙ্কা, তেহরানের হাতে এ ধরনের অস্ত্র গেলে জ্বালানিসংকটের পাশাপাশি ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি তিনি। তবে দেশটির সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর আশাও প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

রোববার দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দিলে শুধু জ্বালানিসংক্রান্ত সংকটই নয়, প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হবে। তাঁর দাবি, পরমাণু অস্ত্র হাতে পেলে ইরান তা ব্যবহার করবে।

হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘র‍্যাপিড রেসপন্স ৪৭’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়। ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো হতে পারে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেই সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বললেও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছেন ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে একটি বড় ও কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ইরান চুক্তিতে সম্মত হলেও দেশটি শেষ পর্যন্ত শর্তগুলো মেনে চলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর বক্তব্য, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওয়াশিংটনের অবস্থান হলো, তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যাবে না। ট্রাম্প প্রশাসনও এ লক্ষ্য অর্জনে কূটনৈতিক চাপের পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনার কথা বলে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত রেখেছেন তিনি, অন্যদিকে সমঝোতার মাধ্যমে সংকট নিরসনের আশাও প্রকাশ করেছেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে বিরোধের পরবর্তী গতিপথ সামরিক সংঘাতের দিকে এগোবে, নাকি কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।