পাওনাদারের চাপ সইতে না পেরে গাইবান্ধায় ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা!

পাওনাদারের চাপ সইতে না পেরে গাইবান্ধায় ব্যবসায়ীর আত্মহত্যা!

প্রতীকী ছবি

গাইবান্ধায় আবু বক্কর সিদ্দিক বিপুল (৫২) নামের এক ব্যক্তি জেলা শহরের স্টেডিয়াম সংলগ্ন রেললাইনে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। তার  মরদেহ রেলওয়ে পুলিশ উদ্ধার করার পর হাতে একটি ছোট কাগজের টুকরো পায়।

ওই কাগজে তিনি তার মৃত্যুর জন্য বেশ কয়েকজনের নাম লিখেছেন। তাদেরকে তিনি তার মৃত্যুর জন্য দায়ী করেন।

নিহত আবু বক্কর সিদ্দিক পূর্ব কোমরনই এলাকার মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তিনি পেশায় চা পাতার ব্যবসায়ী ছিলেন।

ঘটনাটি সকাল সোয়া ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে ঘটলেও রেল পুলিশ সন্ধ্যার পর বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় সাংবাদিকদের জানায়। স্থানীয় লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিনি পাওনাদার ও সুদখোরদের চাপে আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, ‘সকালে সান্তাহার থেকে ছেড়ে আসা লালমনিরহাটগামী পদ্মরাগ ট্রেনের নিচে তিনি হঠাৎ করেই লাফিয়ে পড়েন। এর আগে দু’একজন রেল লাইনের পাশে তাকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখলেও  তার গতিবিধি অস্বাভাবিক বলে মনে হয়নি।

ট্রেন চলে যাওয়ার পর তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে লোকজন ছুটে আসেন। এসময় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।’

সজীব নামের স্থানীয় এক কলেজছাত্র জানান, তার হাতে থাকা কাগজে লেখা ছিল ‘আমার মৃত্যুর জন্য এরা দায়ী।’ নিচে কিছু ব্যক্তির নামও লেখা ছিল। তাদেরকে তিনি ‘আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে উল্লেখ করেন।

কাগজে তিনি তার মৃত্যুর পরপরই বাড়ি দখল হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। তার লেখায় ওইসব লোকদের তিনি ‘সুদখোর’ বলেও অভিহিত করেছেন। তার লেখার মধ্যে ‘ভাই’ পরিচয়ে একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া ছিল। তিনি দাবি করেন, ওই কাগজটিই প্রমাণ করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ জানায়, ‘ওই নম্বরটি তার ছোট ভাই আবু জাহেদ শিপুলের। তাদের কাছেই এই খবরটি পেয়ে নিহতের পরিবার পরিজন ছুটে আসেন।’  

এ ব্যাপারে পরবর্তীতে আবু জাহেদ শিপুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘বড় ভাইকে সুদের ওপর টাকা দেওয়া লোকজন মাঝে মধ্যেই এসে চাপ দিতেন। তাদের আচরণ খুব ভালো ছিল না। তবে টাকার পরিমাণ তার জানা নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘পরিবারের পক্ষ থেকে যাদের কারণে ভাই জীবন দিলেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাইবান্ধা রেলওয়ে (বালাসীঘাট) পুলিশের আইসি এসআই সাহেব গনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।’