মেসেজে সালাম দিলে জবাব দেওয়া কি ওয়াজিব

মেসেজে সালাম দিলে জবাব দেওয়া কি ওয়াজিব

ফাইল ছবি

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে আমাদের যোগাযোগের ধরনেও এসেছে পরিবর্তন। আগে মানুষের সঙ্গে দেখা হলে কিংবা ফোনে কথা বলার সময় সালাম বিনিময় করা হতো।

এখন মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমোসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেকোনো মেসেজ পাঠানোর সময় সালাম দিয়ে থাকেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেউ যদি সরাসরি মুখে সালাম না দিয়ে মেসেজে লিখে সালাম পাঠান, তাহলে সেই সালামের উত্তর দেওয়াও কি ওয়াজিব? নাকি এটি নিছক সৌজন্য প্রকাশের বিষয়?

ইসলামে সালাম দেওয়া সুন্নত। তবে কেউ সালাম দিলে তার উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘আর যখন তোমাদের সালাম দেওয়া হয়, তখন তোমরাও তার চেয়ে উত্তম সালাম দেবে অথবা অনুরূপ জবাব দেবে।

নিশ্চয়ই আল্লাহ সব বিষয়ে হিসাব গ্রহণকারী।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ৮৬)

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সালামের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। কেউ যদি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে, তাহলে উত্তরে ‘ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ’ বলা যায়। আর কেউ যদি এর চেয়ে পূর্ণাঙ্গ সালাম দেন, তাহলে তার অনুরূপ কিংবা সম্ভব হলে আরো উত্তম শব্দে সালামের পুরোপুরি উত্তর দেওয়া আরো ভালো।

মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপে সালাম দিলে করণীয়

এ বিষয়ে প্রখ্যাত ইসলামী আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেন, সালামের উত্তর দেওয়া ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে সালামটি সরাসরি মুখে দেওয়া হয়েছে, নাকি লিখিত বার্তার মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয় নয়। কেউ যদি মেসেঞ্জার, ইমো, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা অন্য কোনো মেসেজিং অ্যাপে লিখে সালাম পাঠান, তাহলে সেই সালামের উত্তর দেওয়াও ওয়াজিব।

কারণ, পবিত্র কোরআনের উল্লিখিত আয়াতে সালামের উত্তর দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে সালাম দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট মাধ্যম বা পদ্ধতিকে শর্ত করা হয়নি।

সুতরাং সরাসরি সালাম বিনিময়ের ক্ষেত্রে যে বিধান প্রযোজ্য, লিখিত বার্তার মাধ্যমে সালাম পাঠানোর ক্ষেত্রেও মূলত সেই বিধান প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ কেউ মেসেঞ্জারে ‘আসসালামু আলাইকুম’ লিখে বার্তা পাঠালে তার সালামের জবাব দেওয়া উচিত। শুধু বার্তাটি দেখে চুপ করে থাকা কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে সালামের উত্তর এড়িয়ে যাওয়া সমীচীন নয়।

লিখিত সালামের উত্তর কি লিখেই দিতে হবে

তবে এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা প্রয়োজন। মেসেজে কেউ সালাম পাঠালে তার উত্তর দেওয়ার জন্য অবশ্যই পাল্টা মেসেজ পাঠাতে হবে কিংবা ফোন করে জানাতে হবে—এমনটি জরুরি নয়।

মাসিক আল কাউসারে প্রকাশিত একটি আলোচনায় বলা হয়েছে, এ ধরনের লিখিত সালামের জবাব মুখে উচ্চারণ করলেই আদায় হয়ে যাবে। সালামদাতাকে শুনিয়ে দেওয়া কিংবা তাকে পাল্টা বার্তা পাঠিয়ে জানানো আবশ্যক নয়। অর্থাৎ কেউ মেসেজে সালাম পাঠালে প্রাপক মুখে সালামের জবাব দিয়ে দিলেই যথেষ্ট হবে। এ বিষয়ে ফিকহের কিতাবে আলোচনা রয়েছে। যেমন—ফয়জুল কাদির (৪/৩১) এবং রদ্দুল মুহতার (৬/৪১৫)।

তবে বাস্তবিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার স্বার্থে মেসেজের মাধ্যমেও সালামের জবাব লিখে পাঠানো উত্তম। এতে সালামদাতা জানতে পারেন যে তাঁর সালামের উত্তর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভালোবাসাও বৃদ্ধি পায়।