রসিকতা করে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করলে কি তালাক হবে?

রসিকতা করে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করলে কি তালাক হবে?

ফাইল ছবি

দাম্পত্য জীবনে তিক্ততা, কোনোভাবে বনিবনা না হলে এবং স্বাভাবিক সম্পর্কে ফেরা সম্ভব না হলে তালাকের বিধান দেওয়া হয়েছে ইসলামে। তালাক দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো পথ খোলা না থাকলে ইসলামী শরিয়ত সমর্থিত পদ্ধতি অনুসরণ করে তালাক দিতে হবে। 

তালাকের সঠিক পদ্ধতি ও নিয়ম এবং তালাক সম্পর্কিত বিধান জানা নেই অনেকেরই। কেউ কেউ তালাকের বিধান না জেনে অনেক সময় শুধু মজার ছলে তালাক দিয়ে থাকেন এবং ভাবেন মজা করে তালাক বলা কারণে হয়তো তালাক হয়নি। কিন্তু বিষয়টি একেবারে বিপরীত। কারণ, ইসলামে কয়টি বিষয় আছে যা মজার ছলে বললেও কার্যকর হয়ে যায়। তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং এ সংক্রান্ত সঠিক বিধান জানতে হবে।

যেমন একজন জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেছেন—`আমার স্বামী মজা করে একসঙ্গে দুইবার মুখে তালাক শব্দ উচ্চারণ করেছেন। এরপরও আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে থাকি। কিছুদিন পর তালাকের বিষয় নিয়ে কথা উঠলে আমি তাকে তালাকের শব্দ উচ্চারণ করতে নিষেধ করি। তখন তিনি বলেন, ‘তালাক বললে কিছুই হয় না।’ এখন আমার সন্দেহ হচ্ছে, ইতোপূর্বে মজা করে দুইবার তালাক উচ্চারণ করার কারণে আমাদের তালাক হয়ে গেছে কি না। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাই'।

আলেমদের মতে, তালাক অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। তালাকের শব্দ মজা বা ঠাট্টার ছলে উচ্চারণ করলেও তা কার্যকর হয়ে যায়।  রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তিনটি বিষয় এমন আছে, যেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বললে তা কার্যকর হয়, আর ঠাট্টা করেও বললে তা কার্যকর হয়ে যায়। তা হলো, বিবাহ, তালাক ও রুজু। (সুনানে তিরমিজি,হাদিস: ১১৮৪)

আলাউদ্দিন কাসানী (রহ.) বলেন, ঠাট্টা-তামাশা করে তালাকের কথা বললেও তালাক কার্যকর হয়ে যায়। 

তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার স্বামী দুইবার তালাক বলার কারণে আপনার উপর দুই তালাকে রজয়ী কার্যকর হয়েছে। 

তবে এক বা দুই তালাকে রজয়ীর পর ইদ্দতের মধ্যে স্বামী রুজু করলে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্বহাল হয়ে যায়। আর রুজু যেমন মৌখিকভাবে করা যায়, তেমনই সহবাস বা স্বামী-স্ত্রী সুলভ কোনো আচরণের মাধ্যমেও রুজু করা যায়। 

তাবেয়ী ইবরাহিম নাখাঈ (রহ.) বলেন, যখন সহবাস করে তখন তার সহবাস করাই রুজু হিসেবে গণ্য হবে। 

আলাউদ্দিন কাসানী (রহ.) বলেন, স্বামী যদি কামভাবের সঙ্গে তার স্ত্রীকে স্পর্শ করে, তাহলে তা রুজু হিসেবে গণ্য হবে। 

সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে দুই তালাকে রজয়ীর পর ইদ্দতের মধ্যে যদি আপনাদের মধ্যে সহবাস বা স্বামী-স্ত্রী সুলভ কোনো আচরণ হয়ে থাকে, তাহলে আপনাদের দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল আছে।

তবে মনে রাখতে হবে, আপনার স্বামীর জন্য পরবর্তীতে শুধুমাত্র এক তালাকের অধিকার থাকবে। হাসি-ঠাট্টা বা কোনোভাবে এক তালাক দিলে বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং তখন সাধারণভাবে রুজু করে বা নতুন করে বিবাহ করে পুনরায় দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপনের সুযোগ থাকবে না। তাই তালাকের শব্দ নিয়ে মজা-তামাশা করা থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত থাকা এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা আবশ্যক। 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তিনটি বিষয়ে ঠাট্টা-তামাশা করা বৈধ নয়। তা হলো, তালাক, বিবাহ ও দাসমুক্তি। (মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদিস: ৭৭৬৫)